• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ | ১০ কার্তিক, ১৪২৭ | ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:৪২

‘একা গেলে বাচ্চারা মা মা বলে হাহাকার করবে তাই ওদের নিয়েই চলে গেলাম’


Share with friends

ঠাকুরগাঁওয়ে মা ও দুই সন্তানের ম’রদেহ উ’দ্ধারের পর আরিফা বেগমের লেখা দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। চিঠিতে আরিফা বেগম তার আত্মহ’ত্যার কারণ লিখে রেখে গেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাড়িতে মেয়ের পড়ার টেবিলে বই চাপা দেওয়া চিঠিটি উ’দ্ধার করা হয়।

Home2 Side ads

রানীশংকৈল থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল জানান, আরিফার ঘরে তার মে’য়ের বই-খাতা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় একটি চিঠি খুঁজে পাওয়া গেছে।

Home2 Side ads
Home2 Side ads

দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে আরিফা বেগম লিখে গেছেন, ‘আহারে জীবন। সংসারের অভাব অশান্তি আর ভালো লাগে না। আমি একাই চলে যেতাম, কিন্তু একা গেলে আমা’র বাচ্চারা মা মা বলে হাহাকার করবে। এজন্য ওদের নিয়েই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমা’র মৃ’ত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমি নিজেই আত্মহ’ত্যা করিলাম। এটা সত্যি একশ বার সত্যি একশ বার সত্যি একশ বার সত্যি।’

চিঠিতে আরিফা তার স্বামী আকবরকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন- ‘স্বামী তোমা’র প্রতি আমা’র কোনো অ’ভিযোগ নাই। আমা’র বিয়ের মোহরানা মাফ করে দিলাম। তুমি ভালো থেকো।’ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে উদ্দেশ্য করে আরিফা লিখেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে অনেক খা’রাপ আচরণ করছি এর জন্য মাফ চাই।’

আরিফার স্বামী আকবর আলী বলেন, অভাব-অনটনের সংসারে স্বামী-স্ত্রী’র ঝগড়া-বিবাদ হয়েই থাকে। মঙ্গলবার একটি ঋণ দান সংস্থা থেকে ১৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। সেটা নিয়ে আরিফার সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। অভাবের কারণে আরিফা সব সময় বলত, ‘আমি তোমা’র বাসায় থাকব না। যেখানে যাই, আমি ছে’লে-মে’য়েকে সঙ্গে করেই নিয়ে যাব। কিন্তু ছে’লে-মে’য়ে নিয়ে এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।’

রাণীশংকৈল থা’নার ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, পু’লিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে অভাব-অনটন ও সংসারে অশান্তি ছিল আরিফার। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি। তাই মে’য়ে ও ছে’লেকে বিষাক্ত কোনো কিছু খাইয়ে পরে তিনি আত্মহ’ত্যা করে থাকতে পারেন। ময়নাত’দন্ত প্রতিবেদন পেলে সবটা জানা যাবে।

ম’রদেহ উ’দ্ধারের পর স্বামী আকবর আলী, শ্বশুর সিরাজুল ইস’লাম, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও দেবর বাবর আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ’ট’ক করেছিল পু’লিশ। পরে তাদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রানীশংকৈল উপজে’লার ধ’র্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া শিয়ালডাঙ্গী গ্রামে বাড়ির সামনে পুকুর থেকে আকবর আলীর স্ত্রী’ আরিফা বেগম (৩২), মে’য়ে আখলিমা আখতার আঁখি (১০) ও ছে’লে আরাফত হোসেনের (৪) ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পু’লিশ।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।

single page ads 3