• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

দুপুর ২:৫৬

করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি, শ্বা’সক’ষ্ট নিয়ে নিয়ে দেশে প্রথম চিকিৎসকের মৃ’ত্যু


Share with friends

জ্বর, কাশি, শ্বা’সক’ষ্ট নিয়ে ফেরদৌস রহমান নামে এক ডেন্টাল সার্জন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মা’রা গিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ।

ফেরদৌস রহমানের বন্ধু আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, মা’রা যাওয়ার পর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান তার নমুনা সংগ্রহ করেছে।

ফেরদৌস রহমানের চিকিৎসক বন্ধুরা জানান, তিনি গত এক সপ্তাহ ধরেই জ্বরে ভু’গছিলেন, পরে কাশি এবং গলাব্যথা শুরু হয়। জ্বর কমে গেলেও কাশি, গলা ব্য’থার সঙ্গে তার শ্বা’সক’ষ্ট শুরু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে করোনা পরীক্ষার জন্য বলা হলেও তিনি তাতে রাজি হচ্ছিলেন না, বাসাতেই আইসোলেশনে ছিলেন।

রবিবার (১২ এপ্রিল) তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি বাসাতেই মা’রা যান। তবে যেহেতু তার লক্ষণ-উপসর্গ করোনার ছিল, তাই তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, আজিমপুরে ফেরদৌস চেম্বার করতেন, সেখান থেকেই তিনি সং’ক্র’মিত হয়ে থাকতে পারেন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড আরও আরও ১৩৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটিই দেশে একদিনে শনাক্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে আ’ক্রা’ন্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২১ জনে। এ ছাড়া এ সময়ে মৃ’ত্যু হয়েছে এক শি’শুসহ আরও চারজনের। সুস্থ হয়েছেন তিনজন।

রবিবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ এ তথ্য তুলে ধরেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ২৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৩৯ জনের শ’রী’রে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আ’ক্রা’ন্তের ৫০ ভাগ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। এছাড়া করোনায় এক শি’শুসহ চারজনের মৃ’ত্যু হয়েছে। বাকিদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। বয়স ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে। তাদের নিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় এক চিকিৎসকসহ তিনজন করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন। তাদের নিয়ে মোট ৩৯ জন সুস্থ হলেন।বর্তমানে সারাদেশে মোট ২০ হাজার ৫২৫জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন জানিয়ে ফ্লোরা বলেন, তাদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯ হাজার ১১১ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এক হাজার ৪১৪ জন আছেন।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মা’র’ণ নভেল করোনাভাইরাসের রোগী বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় মা’র্চের ৮ তারিখে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে আ’ক্রা’ন্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়ছিল। আর গত ৫ এপ্রিলের পর থেকে করোনায় আ’ক্রা’ন্ত অনেক বেশি শনাক্ত হতে থাকে।

গত ৬ এপ্রিল সোমবার ৩৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃ’ত্যু হয়। এদিন কারো সুস্থ হওয়ার জানায়নি আইইডিসিআর। ৭ এপ্রিল আ’ক্রা’ন্ত ৪১ মৃ’ত্যু ৫। আ’ক্রা’ন্তদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন আর নারী ১৩ জন। এদিনও কেউ সুস্থ হননি।

৮ এপ্রিল বুধবার দেশে করোনা আ’ক্রা’ন্ত ৫৪ ও মৃ’ত্যু তিন জনের। এরপর ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার একদিনে ১১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে গত চারদিনের তুলনায় এদিন মৃ’ত্যু ছিল সবচেয়ে কম ১ জন। তবে এই দুইদিন কারো সুস্থ হওয়ার তথ্য নেই। ১০ এপ্রিল আগের দিনের তুলনায় আ’ক্রা’ন্ত কমলেও মৃ’ত্যু বাড়ে।

এদিন ছয় জন মা’রা যাওয়ার তথ্য জানানো হয়। আর নতুন আ’ক্রা’ন্ত হন ৯৪ জন। সুস্থ হননি কেউ। ১১ এপ্রিল শনিবার ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত ও তিনজনের মৃ’ত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর। আজ ১৩৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় আ’ক্রা’ন্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২১ জনে।

এদিকে বিশ্বে রবিবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ছয় হাজারের বেশি মানুষের প্রা’ণ কেড়ে নিয়েছে এই ভাইরাস। একই সময়ে নতুন করে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। এ নিয়ে করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহ’তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৮২৭ জনে এবং আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৩১৪ জন। অ’পরদিকে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।