• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:০৩

করোনার চেয়ে বড় টেনশন যাদের টিউশনি


Share with friends

দুটি টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতাম। ছোট বোনটা এবার ক্লাস নাইনে উঠেছে। সংসারের খরচ বেড়েছে। এজন্য আরো একটি টিউশনি যোগাড় করি। হঠাতই মা’থায় বজ্রপাতের মতো করো’নার ছুটি এলো। বন্ধ হয়ে গেল সব। শহরে মেসে ভাড়ায় থাকতাম। ভাই’রাসের চিন্তা না, টিউশনি ছাড়া দুবেলা ভাত জুটানোই আমাদের বড় চিন্তা।
এভাবেই অসহায়ত্বের কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীর অশ্রুস্নাত চোখ আজ দেশের লাখো শিক্ষার্থীর প্রতিচ্ছবি।

এই শিক্ষার্থীর মতো দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা আজ অসহায়। টিউশনি কিংবা খণ্ডকালীন চাকরিই যাদের একমাত্র সম্বল ছিল তারা আজ অসহায়ত্বের চার দেয়ালে বন্দী।

করো’নাভাই’রাসের বিস্তার রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যেকোন ধরণের গণজমায়েত। বন্ধ আছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া লকডাউন করা হয়েছে নানা এলাকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সঙ্গেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন চাকরি ও টিউশনি।

‘ঠিকমতো দুবেলা ভাত জুটানোই আমাদের জন্য আজ অলীক কল্পনা। এসবের পরেও আবার দিতে হচ্ছে বাসা ভাড়া। এ যেন ম’রার উপর খারার ঘা।’

এমন অ’ভিব্যক্তি প্রকাশের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জামিনুর রহমানের কপালে দেখা গেছে চিন্তার ভাঁজ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শোয়েব ইস’লাম। পেট চালানোর জন্য টিউশনিই ছিল তার একমাত্র সম্বল। তিনি বললেন, এমন দুঃসময় আসবে কল্পনাও করিনি। সব বন্ধ হলেও আমাদের খাওয়া তো বন্ধ হবে না। এখন সব হারিয়ে আম’রা খাব কী’? আরো কতদিন এভাবে চলবে জানি না। টিউশনিই সব ছিলো। তাই এখন আর কিছুই নেই।

ফরিদপুরের বোয়ালমা’রীর কৃষক বাবার ঘরে জন্ম আশরাফুল ইস’লাম সুমনের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সদ্য মাস্টার্স শেষ হয়েছে। বিভাগের সেরা রেজাল্টও তার দখলে। এতোদিন টিউশনি করে উপার্জিত টাকা দিয়ে নিজের এবং পরিবারের খরচ চালিয়েছেন। কিন্তু সুমনের আর্তনাদ শোনার মতো আজ কেউ নেই।

সুমন বলেন, করো’নাভাই’রাসের প্রভাব পড়েছে টিউশনিতেও। সব যানবহন বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের বাড়িতেও যাওয়া হয়ে উঠেনি। খুলশীর মেসেই কাটছে রুমবন্দী জীবন। টিউশন ছাড়া জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেলো। বাড়িতেও যথেষ্ট হেল্প করবার সুযোগ নেই। বাড়ি থেকে এখন চাইছে না। কিন্তু কিভাবে চলছে পরিবার, সেই চিন্তায় একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে। জানি না কী’ উপায় হবে!