• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:২১

করোনায় মারা গেলে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা


Share with friends

মহামা’রি করেনাভাই’রাস মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পু’লিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ যেসব সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তাদের কেউ আ’ক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেবে সরকার। আর এসব অর্থ দেয়া হবে গ্রেডভেদে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নভেল করো’নাভাই’রাসে (কোভিড-১৯) আ’ক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্ম’রত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ সংক্রান্ত সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারী দায়িত্ব পালনকালে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারী করো’নায় আ’ক্রান্ত হলে গ্রেডভেদে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পাবেন। আর সরকারি কোনো কর্মক’র্তা করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেলে এর পাঁচগুণ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ‘২০১৫ এর বেতনস্কেল অনুযায়ী ১৫-৩০তম গ্রেডের কেউ আ’ক্রান্ত হলে তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন পাঁচ লাখ টাকা, আর মা’রা গেলে পাবেন ২৫ লাখ টাকা। ১০-১৪তম গ্রেডের কেউ আ’ক্রান্ত হলে পাবেন সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং আর মা’রা গেলে পাবেন সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। এছাড়া প্রথম-নবম গ্রেডের কেউ আ’ক্রান্ত হলে পাবেন ১০ লাখ টাকা এবং মা’রা গেলে পাবেন ৫০ লাখ টাকা।’

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ক্ষতিপূরণের আওতায় করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্ম’রত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, ভাই’রাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে লকডাউন ও সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত মাঠপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মক’র্তা ও কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে

* করো’নাভাই’রাস পজিটিভের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীসহ মাঠপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মক’র্তা ও কর্মচারী করো’নাভাই’রাস পজিটিভের প্রমাণক বা মেডিকেল রিপোর্টসহ স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট নির্দিষ্ট ফরমে ক্ষতিপূরণের দাবিনামা পেশ করবেন।

* করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফরমে মৃ’ত্যুবরণকারী কর্মক’র্তা-কর্মচারীর স্ত্রী’/স্বামী/সন্তান এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বাবা/মা ক্ষতিপূরণের দাবি-সংবলিত আবেদন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করবেন।

* আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্রসমূহ যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবে।

* প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীগণ কেবলমাত্র এ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

* করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত এবং করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সৃজনকৃত খাতে করো’না (কোভিচ-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁ’কি মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণ বরাদ্দকৃত অর্থ হতে নির্বাহ করা হবে। অর্থ বিভাগ ক্ষতিপূরণের আবেদনপ্রাপ্তির পর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের সরকারি আদেশ জারি করবে।

* এ ক্ষতিপূরণ বর্তমান প্রচলিত অন্য যেকোনো প্রজ্ঞাপন/আদেশে বর্ণিত কর্মকালীন মৃ’ত্যুবরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের অ’তিরিক্ত হিসেবে প্রদেয় হবে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল হতে এ পরিপত্রের নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেনের হিসাবে, করো’নাভাই’রাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে ২১৫ জন চিকিৎসক, ৬৬ জন নার্স ও ১৮৮ স্বাস্থ্যকর্মী আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

ইতিমধ্যেই করো’নায় আ’ক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃ’ত্যু হয়েছে।তার পরিবারও এর আওতায় আসবে।