• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:২৯

করো’নায় মৃ’ত শি’শু দাফন করল পরিবার, পিপি পরিহিতরা জানাজা পড়িয়ে খালাস


Share with friends

প্রা’ণঘাতী করো’নাভাই’রাসে (কোভিড-১৯) পুরো জাতি যখন ঘরব’ন্দি, তখন চট্টগ্রামের পটিয়ায় করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা যাওয়া এক শি’শু সন্তানের পাশে মা-বাবাসহ ঘনিষ্টজনদের ছবি এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) করো’নায় মা’রা যায় ওই শি’শু। তার নাম আশরাফুল।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ বলছে, করো’না নিয়ে এত প্রস্তুতির কথা বলা হলেও আসলে অন্য কিছু হচ্ছে, যা কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাই’রাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পটিয়া কবরস্থানে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) পরে চারজন লোক দাঁড়িয়ে। তার অদূরে করো’নায় মা’রা যাওয়া শি’শুটির লা’শ কোলে একজন দাঁড়িয়ে। তার আশপাশে আরও দুজন, যাদের কেউই পিপিই পরিহিত নয়।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ছবিতে লা’শ কোলে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির নাম মো. টিপু। স’ম্পর্কে তিনি মা’রা যাওয়া শি’শু আশরাফুলের চাচা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. টিপু বলেন, ‘সরকার ইস’লামিক ফাউন্ডেশন থেকে চারজন লোক দিয়েছিল। তারা পিপিই পরা ছিল। তবে তারা লা’শের গোসল বা কবরে নামানোর ব্যাপারে কোনো সহায়তাই করেনি। শুধু জানাজা পড়া আর লা’শ ধোয়ানোর বিষয়টি দেখিয়ে দিয়েছে মাত্র। তাদের পরিবারের কেউ জানাজা বা লা’শ ধোয়ানোর সময় পিপিই বা প্রতিরোধমূলক কোনো কিছুই পায়নি। শি’শু আশরাফুলকে গোসল করানো, কবরে নামানো, দাফন-সবই তার বাবাসহ আম’রা নিজেরাই করেছি।’

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র লা’শ চট্টগ্রাম হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনার সময় তিনটি পিপিই দেয়া হয়েছিল, যা আশরাফুলের মা, দাদি ও অ’পর একজন পরেছিলেন।

শি’শুটির মৃ’ত্যুর পর আশপাশের দুই হাজার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

তবে আশরাফুল করো’নায় আ’ক্রান্ত ছিল কি-না, তা জানত না তার পরিবার। টিপু বলেন, ‘৬ বছরের শি’শু আশরাফুল জন্ম থেকে প্রতিব’ন্ধী। সে হাঁটতে পারত না, এমনকি ভালোভাবে কথাও বলতে পারত না। অ’সুস্থ হওয়া, হাসপাতা’লে যাওয়াসহ সবসময় টিপুর মা, বাবা, দাদি আর খালা পাশে ছিল। যদি শি’শু আশরাফুল করো’নায় মা’রাই যায়, তাহলে অন্যদের যা ক্ষতি বা করো’না সংক্রমণ তা তো আগেই হয়ে গেছে।‘

তবে পটিয়া উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) ফারজানা জাহান উপমা দাবি করেছেন, শি’শুটির মৃ’ত্যুর পর মা, বাবাসহ পরিবারের চারজনকে পিপিই দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেগুলো ব্যবহার করেননি। শি’শুটির পরিবারের বক্তব্য ছিল, করো’না সংক্রমণ যদি হয়ে থাকে তা আগেই হয়ে গেছে, এখন আর কী’ হবে!

পরিক’ল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের ফোরামের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসলে আমাদের দায়িত্বশীলদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বলতে কিছু নেই। যতক্ষণ পযর্ন্ত প্রধানমন্ত্রী কোনো বিষয়ে বলবেন না ততক্ষণ পর‌্যন্ত তারা নিজে থেকে কিছু করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। নয়তো যেখানে করো’না রোগী দাফনে বিশ্ব সংস্থার প্রণীত বিধিবিধান রয়েছে, সেখানে নিজেরা দর্শক সেজে একটি পরিবারকে এভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার মতো অবস্থা কী’ভাবে হলো?’

চট্টগ্রামে করো’নাভাই’রাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুসারে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে কেউ মা’রা গেলে তাকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি কবরস্থানে দাফন করা হবে। এছাড়া জানাজা ও দাফনের জন্য ইস’লামি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে জানানো হয়। কিন্তু করো’নায় আ’ক্রান্ত এই শি’শুটির ক্ষেত্রে এর কোনোটাই মানা হয়নি।