• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

দুপুর ২:৪৫

করো’না স’ন্দেহে রাস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধা এখন ম্যাজিস্ট্রেটের মা


Share with friends

করো’নায় আ’ক্রান্ত স’ন্দেহে এক বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেছেন সন্তানরা। খবর পেয়ে তার কাছে ছুটে গেলেন সাভা’রের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।

একই সঙ্গে অসহায় ওই বৃদ্ধাকে ‘মা’ ডেকে তার সব দায়িত্ব নিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। গতকাল শনিবার রাতে সাভা’র উপজে’লার হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধাকে উ’দ্ধার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম বিষয়টি উপজে’লা প্রশাসনকে জানালে তাকে উ’দ্ধারে ছুটে যান তিনি।

এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে সাভা’র উপজে’লা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে ‘ম্যাজিস্ট্রেটের মা’ পরিচয়ে তার সেবা দেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে দেখে তাদের স’ন্দেহ হয়। কেউ তার কাছে যাচ্ছিলেন না। মনে হচ্ছিল, তিনি না খেয়ে থেকে অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। পরে প্রশাসনের কর্মক’র্তারা এসে তাকে উ’দ্ধার করে নিয়ে যান।

এলাকাবাসী জানান, ওই বৃদ্ধাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার সন্তানরা। এলাকাটি করো’না আ’ক্রান্ত। তার ওপর ঝামেলা হওয়ার ভয়ে ওই বৃদ্ধা কার বাসায় ছিলেন সেটাও ভয়ে বলছেন না কেউ। সেই সঙ্গে সমাজের কাছে হেয় হবেন ভয়ে সন্তানদের পরিচয় জানাননি এই মা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বৃদ্ধার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজে’লায়।

সাভা’রের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, প্রকৃতপক্ষে অসহায় ওই বৃদ্ধা করো’না আ’ক্রান্ত কি-না তা পরীক্ষার জন্য রোববার তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, করো’না আ’ক্রান্ত ভেবে সন্তানরা তাকে ফেলে চলে গেছেন। এখন তিনি আমা’র মা। ব্যক্তিগতভাবে তার সব দায়-দায়িত্ব এখন থেকে আমা’র। তার শরীরের নমুনা পরীক্ষার পর যদি করো’না পজিটিভ আসে, তবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতা’লে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যেই তার পরিবারের খোঁজ নেয়া হয়েছে। যদি রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাহলে উন্নত চিকিৎসা করাব। রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তিনি আমা’র ব্যবস্থাপনাতেই থাকবেন। ব্যক্তিগতভাবে যা যা করা দরকার এই মায়ের জন্য সবকিছুই করব আমি।

সাভা’র উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. মোহাম্ম’দ সায়েমুল হুদা বলেন, ভাবতেই ক’ষ্ট হচ্ছে কেমন সন্তান। সন্তান নামের ক’লঙ্ক। আম’রা এই মায়ের পরীক্ষা করাব। মায়ের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা আম’রা নিশ্চিত করব। তিনি আমা’রও মা। এই মায়ের সব দায়িত্ব এখন আমাদের। সাভা’র উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব কর্মক’র্তা-কর্মচারী আজ থেকে বৃদ্ধা মায়ের ছে’লে-মে’য়ে হিসেবে সেবা করবেন।