• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:০৮

কোয়ারেন্টিন মানেননি প্রবাসী শাহআলম, শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যু


Share with friends

প্রকাশিত: ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, ১১ এপ্রিল ২০২০

কোয়ারেন্টিন মানেননি শাহআলম। মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর নিজের বাড়ি আর শ্বশুরবাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন অবাধে। গিয়েছেন অন্য উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতেও। পরিণতি ভালো হয়নি তার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী এই প্রবাসী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় জানিয়েছেন, শাহআলম করোনা উপসর্গ নিয়েই মারা গেছেন। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি-না।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পূর্বভাগ ইউনিয়নের মগবুলপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে শাহআলম। গেল ১৮ মার্চ দেশে আসেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে তাকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হলে সেখান থেকে চলে আসেন বাড়িতে। বাড়িতে এসেও ছিলেন না কোয়ারেন্টিনে।

ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান জানান, শাহআলম আসার পর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই ছিল। মাঝেমধ্যে নিজের বাপের বাড়িতে আসা যাওয়া করেছে কি-না জানি না। আমাদের কাছে তালিকা আসার পর আমরা অনুসন্ধান করে তাকে বাড়িতে পাইনি। আমার ইউনিয়নে ১৯ জন লোক প্রবাস থেকে আসে। যদিও ২৩ জনের তালিকা দেয়া হয় আমাদের কাছে। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থাকে ২ জন, ১ জনের নাম ঠিকানা ভুল ছিল। শাহআলম ছাড়া প্রবাস থেকে আসা সবাই আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিল। প্রত্যেকের বাড়িতে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে কমিউনিকেশন ঠিক রাখতে পেরেছি। কিন্তু শাহআলমকেই শুধু আমরা বাড়িতে পায়নি। তার বাবাকে জিজ্ঞেস করার পর বলেছে শ্বশুর বাড়িতে রয়েছে। এরপরও আমরা ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তার বাবাকে ইনফরমেশন করেছি তার ছেলে যদি বাড়িতে আসে সে যেন ১৪ দিনের আগে বাড়ি থেকে বের না হয়। বাড়িতে আসার পরই যেন আমাদের খবর দেয়। আমাদের অনুসন্ধানের ২/১ দিন আগেই সে নিজের বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, নাসিরনগরে নিজের বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির বাইরে শাহআলম সরাইলের শাহজাদাপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল বলেও তথ্য মিলেছে। যদিও এনিয়ে এখন কেউ মুখ খুলছেন না। শাহআলমের মৃত্যুর পর শ্বশুর ও তার নিজের বাড়ি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন।
তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, শাহআলম ১৮ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন। ২০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল অসুস্থতা বোধ করেন শাহআলম। শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর টাইফয়েড ধরা পরে তার। কিন্তু তখনও করোনা ভাইরাসের কোনও উপসর্গ প্রকাশ পায়নি। ৭ এপ্রিল রাতে তার শ্বাসকষ্ট বাড়ে। রাত ১০টার পর স্বজনরা তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে জানাজা শেষে মগবুলপুর গ্রামে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী জানান, তাৎক্ষনিক নিহতের নিজের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

কেএ/ডিএ