• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ২ মাঘ, ১৪২৭ | ৩রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১২:৩৪

গ্রেফতার হওয়া ডা. সাবরিনার ভাইরাল যত ছবি


Share with friends

ডা. সাবরিনা চৌধুরী। পেশায় হৃদরোগ সার্জন। টেলিভিশনেও পরিচিত মুখ। ট’কশোতে স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনায় নিয়মিত অংশ নিতেন। দিতেন সুস্থ থাকার নানা টিপস। সবকিছু ছাড়িয়ে ভ’য়ঙ্কর এক প্রতারণার অ’ভিযোগে এখন তিনি আলোচনায়। খলনায়ক তার স্বামী আরিফ চৌধুরী। যার চতুর্থ স্ত্রী’ হিসাবেই সাবরিনা পরিচিত। আরিফের দুই স্ত্রী’ থাকেন রাশিয়া ও লন্ডনে। আর আরেকজনের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

Home2 Side ads

Home2 Side ads
Home2 Side ads

ডা. সাবরিনাকে একদিন এক চিকিৎসকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কা’টানো অবস্থায় পেয়েছেন স্বামী আরিফ চৌধুরী। পরে আরিফের মা’রধরের শিকার হন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতা’লের ওই চিকিৎসক। এনিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা শেরেবাংলা থা’নায় একটি জিডি করেছিলেন।

জেকেজির এক কর্মীকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় গুলশান থা’নার আরিফ চৌধুরীর বি’রুদ্ধে মা’মলা রয়েছে। এসব নিয়ে সেই সময় আলোচনার কমতি ছিল না। সম্প্রতি এই দম্পতি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে তারা ২৭ হাজার করো’না রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ১৫ হাজার ৪৬০টি মনগড়া ভু’য়া রিপোর্ট দিয়েছেন। বাকি ১১ হাজার ৫৪০টি রিপোর্ট দিয়েছে আইইডিসিআরের মাধ্যমে। জেকেজির গুলশানের অফিস থেকে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভু’য়া রিপোর্ট দিয়ে এই দম্পতি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৮ কোটি টাকা।

করো’নার রিপোর্ট জালিয়াতির কারণে রোববার (১২ জুলাই) জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ। এর আগে গ্রে’প্তার সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জন এখন কারাগারে আছেন। পু’লিশি ত’দন্তে তাদের ভু’য়া রিপোর্ট প্রদানের সত্যতাও মিলেছে।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করো’নার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। জালিয়াতির কাজে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের রেজিষ্টার সার্জন হয়েও তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারি চাকরি করেও তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ ভাগাতেন। এর বাইরে এই দম্পতির বি’রুদ্ধে নানা অ’নৈতিক কর্মকা’ন্ড, মা’দকতা, বিশিষ্টজনের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা নেয়া, হু’মকি-ধামকি, স’ন্ত্রাসী বাহিনী লালন পালনসহ নানা অ’ভিযোগ রয়েছে। বিএমএ নেতার পরিচয় ভাঙিয়ে চলাফেরা করেন সাবরিনা।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা কিছু ছবি ব্যবহার করে এই চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিজের ক্ষমতা জাহির করতেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে অ’ভিযোগ ওঠেছে।

জেকেজি প্রতিষ্ঠানের সিইও আরিফ চৌধুরীর নামে জালিয়াতি, সরকারি কাজে বাধা, পু’লিশের ওপর হা’মলাসহ আরো কয়েকটি অ’ভিযোগে চারটি মা’মলা করেছে পু’লিশ। এসব মা’মলার কোনোটিতেই আ’সামি করা হয়নি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে। মা’মলার ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথম’দিকে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে ত’দন্তে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে রিপোর্ট জালিয়াতি, তিতুমীর কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হা’মলা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর হা’মলায় সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।

এদিকে শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ডা. সাবরিনা চৌধুরী বলেছেন, আমি আরিফকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি বা দিতাম এগুলো একেবারে মিথ্যা কথা। বরং জেকেজির জাল সনদ তৈরির কথা তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে আরিফ পু’লিশের কাছে শিকার করেছেন জেকেজির সঙ্গে সাবরিনার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাবরিনা-আরিফ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে দিব্যি জালিয়াতির কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলো। হয়তোবা তাদের এমন কর্মকা’ণ্ড স’ম্পর্কে কেউই কোনোদিন জানতে পারতো না। তবে তিতুমীর কলেজে করো’নার বুথ স্থাপন করে অ’নৈতিক কর্মকা’ণ্ড, গান বাজনা, পার্টি ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের মা’রধরের ঘটনার ত’দন্ত করতে গিয়ে পু’লিশ তাদের জালিয়াতির বিষয়টি ধরতে পারে।

জালিয়াতির ঘটনায় পু’লিশ আরিফ ও তার ৫ সহযোগীকে গ্রে’প্তার করে ২৫শে জুন। পু’লিশ তাদেরকে গ্রে’প্তার করে তেজগাঁও থা’নায় নিয়ে আসে। এরপর ওইদিন রাতেই আরিফকে থা’না থেকে ছাড়িয়ে নিতে একটি বিশেষ দলের পরিচয় দিয়ে অন্তত ৬০/৭০ জন লোক তেজগাঁও থা’নায় হা’মলা করেছিলো। হা’মলাকারীরা ওইদিন থা’নার কেচিগেট ভাংচুর করে। পু’লিশের ওপরও হা’মলার ঘটনা ঘটে। পু’লিশ ঘটনাস্থল থেকেই হা’মলাকারী ১৮ জনকে আ’ট’ক করে পৃথক মা’মলায় গ্রে’প্তার দেখিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, হা’মলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পরিচয় দিয়েছিল। তারা আরিফকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য এতটাই মা’রমুখী ছিল প্রথম’দিকে থা’নার পু’লিশও অসহায় হয়ে পড়েছিল। পরে বাধ্য হয়ে পু’লিশ তাদেরকে আ’ট’ক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া খোদ আরিফকে গ্রে’প্তার করে আনার পর সে পু’লিশের সঙ্গে খা’রাপ আচরণ করেছে। মা’দকাসক্ত আরিফ থা’নায় এসে পু’লিশের কাছে নে’শাদ্রব্য চায়। পু’লিশ তাকে নে’শাদ্রব্য না দেয়াতে সে চড়াও হয়ে থা’নার সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরিফ সবসময় নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিত। আদতে সে দলীয় কোনো পদপদবিতে ছিল না। শুধু দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে ফায়দা নিতো। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে সে দাফট দেখাত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয় দিয়েও সে মানুষকে হু’মকি ধামকি দিত। এই পরিচয় দিয়ে আরিফ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অ’তিরিক্ত মহাপরিচালককে হু’মকি দিয়েছে বলেও অ’ভিযোগ আছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাবরিনা ও আরিফ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া। নানান অ’নৈতিক কাজের সঙ্গে তারা জ’ড়িত। বিভিন্ন অ’নৈতিক কাজকর্ম করে তারা কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। জেকেজিতে চাকরি করতেন নার্স তানজিনা পাটোয়ারী ও তার স্বামী হু’মায়ূন কবির। তানজিনার বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। ভু’য়া করো’না পরীক্ষা করে কোটি কোটি টাকা কামানো দেখে তানজিনা দাবি করেন তার বেতন বাড়িয়ে দিতে হবে। বিষয়টি জেকেজির কর্ণধার আরিফ চৌধুরী জেনে তানজিনা ও তার স্বামীকে চাকরিচ্যুত করেন। পরে তারা দুজন বাসায় বসে নিজেরাই করো’নার ভু’য়া টেস্টের বাণিজ্য চালান। তানজিনা নমুনা সংগ্রহ করতেন আর ঘরে বসে তার স্বামী রিপোর্ট তৈরি করতেন। ২৩ জুন রাতে তানজিনা ও তার স্বামী গ্রে’ফতার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে জেকেজির প্রতারণার র’হস্য। এর পর জেকেজির গুলশান অফিসে অ’ভিযান চালিয়ে গ্রে’প্তার করা হয় প্রতারক আরিফ চৌধুরীসহ অন্যদের।

তেজগাঁও পু’লিশের একাধিকসূত্র জানিয়েছে, আ’লোচিত এই ঘটনার ত’দন্তে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই মিলেছে। ত’দন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পু’লিশি ত’দন্তে সাবরিনা ও আরিফের খুঁটির জো’রের সন্ধান মিলেছে। যাদের প্রভাব খাটিয়ে তারা বেপরোয়াভাবে অ’পকর্ম করে যাচ্ছিলো। প্রভাব খাটিয়ে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে করো’নার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে আসে। শুধুমাত্র তিতুমির কলেজে বুথ স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পেলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরে থেকেও মাঠকর্মী পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। অল্প কিছুদিনেই তারা ২৭ হাজার মানুষের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। যারমধ্যে ১৫ হাজারের ওপরে ভু’য়া সনদ দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাসহ, নায়ায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল সাবরিনা-আরিফের দম্পতির জেকেজি প্রতিষ্ঠান। নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া ছিল। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠ কর্মীরা বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন। আবার অনেককে জেকেজির বুথের ঠিকানা দেয়া হতো। এভাবে কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতো। পরে তাদের গুলশানের একটি ভবনের ১৫ তলার অফিসের একটি ল্যাপটপ থেকে ভু’য়া সনদ দিত। ওই ল্যাপটপ থেকে জেকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জাল রিপোর্ট তৈরির কাজ করতো। প্রতিটা সনদের জন্য নেয়া হতো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদেশিদের কাছ থেকে নেয়া হতো ১০০ ডলার। যদিও শর্ত ছিল বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। কিন্তু তারা সকল প্রকার শর্তভঙ্গ করে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিতো।

single page ads 3