• ঢাকা
  • রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৪:০১

জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে দায়িত্বপালন, করো’নায় আ’ক্রান্ত ২১৭ পু’লিশ সদস্য


Share with friends

প্রা’ণঘাতী করো’নাভাই’রাসে সংক্রমিত হয়েছেন বাংলাদেশ পু’লিশের ২১৭জন সদস্য। তাদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাও রয়েছেন। জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা সবাই ভাই’রাসটিতে আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

পু’লিশ হেডকোয়ার্টাসের সর্বশেষ (২২ এপ্রিল) তথ্যানুযায়ী, করো’নায় আ’ক্রান্ত পু’লিশ সদস্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পু’লিশের (ডিএমপি) ১১৭জন, গাজীপুর মহানগর পু’লিশের (জিএমপি) ২৬জন, নারায়ণগঞ্জে ১৬ জন, চট্টগ্রাম মহানগর পু’লিশের (সিএমপি) ২জন, নরসিংদীতে ৬জন, শেরপুরে ৩ জন, বিশেষ শাখার ৫জন এবং সিভিল স্টাফ ৪জন।

গত রবিবার পর্যন্ত ডিএমপিতে করো’নায় আ’ক্রান্ত ছিলেন ৩৪ জন। সোমবার আরও ৪৬ জন বেড়ে আ’ক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ জনে। এরপর মঙ্গলবার তা দাঁড়ায় ১০১ জনে। বুধবার তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ জনে। সংক্রমণের ঝুঁ’কি থাকায় আ’ক্রান্তদের সংস্প’র্শে আসা অন্য সদস্যদের আলাদা করা হয়েছে। এক হাজারের অধিক সংখ্যক পু’লিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

করো’নায় প্রত্যেক পু’লিশ সদস্যকে সুরক্ষিত রেখে দায়িত্ব পালন করতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন পু’লিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

গতকাল তিনি একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, করো’না আ’ক্রান্ত পু’লিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সাড়ে ছয়শ’ বেডের হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। পু’লিশের নিজস্ব হাসপাতা’লে শয্যা আছে আড়াইশ’। আর সাড়ে চারশ’ বেডের দু’টি হাসপাতাল ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ভাড়া করা ওই দুই হাসপাতাল হলো- মহানগর হাসপাতাল ও সিরাজুল ইস’লাম হাসপাতাল। এছাড়া পিসিআর ল্যাব বসাচ্ছে পু’লিশ। তখন করো’না পরীক্ষার জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে না।

আইজিপি আরও জানান, পু’লিশের জন্য ৫০টি আইসিইউ শয্যাও প্রস্তুত। এছাড়া ভাড়া করা দুই হাসপাতা’লের আইসিইউতে পু’লিশ সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পু’লিশ পিছপা হবে না।

ইতোমধ্যে সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন ইউনিট’কে পর্যাপ্ত আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পু’লিশ সদস্যদের জন্য ভিটামিন সি, ডি এবং জিংক ট্যাবলেট কেনা হচ্ছে। শিগগিরই তা বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হবে।

ঢাকা মহানগর কমিশনার শফিকুল ইস’লাম সাংবাদিকদের বলেন, পু’লিশের যে সদস্যরা আ’ক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা সবাই বাইরে দায়িত্ব পালনে গিয়েছিলেন। অসাবধানতাবশত মানুষের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় তাঁরা সংক্রমিত হয়েছেন বলে তাঁরা মনে করছেন।

দায়িত্ব পালনের সময় পু’লিশ সদস্যদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পু’লিশ সদস্যদের সুরক্ষায় প্রথম থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো এখন আরও জো’রদার করা হচ্ছে। সংক্রমণের আশ’ঙ্কা রয়েছে, এমন পু’লিশ সদস্যদের আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। তাঁদের জন্য ডেম’রার অস্থায়ী পু’লিশ লাইনসে ১০০টি বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজারবাগ মেহমানখানা এবং মিরপুর মেহমানখানায়ও কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পেশাজীবীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একক হিসাবে পু’লিশেই আ’ক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পরই রয়েছেন চিকিৎসকরা। নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যু’ক্ত করলে অবশ্য সে সংখ্যা সবার ওপরে। পু’লিশে আ’ক্রান্তদের অনেকেই তরুণ ও অবিবাহিত।

করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পু’লিশ সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতা’লে নেওয়া এবং কোয়ারেন্টাইন থেকে পালানো ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ করছেন তাঁরা।