• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৫:৩৬

ডাক্তাররাই এখন পরিবারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ


Share with friends

জোহরাফ মুনা পেশায় চিকিৎসক। করো’না সংকটে তিনিও তার দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতা’লের ডিউটি শেষে বাসায় যেতে হয় তাকে। কিন্তু সেখানেই তার ভ’য়। বাসায় ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। সেসব নিয়েই আবেগঘন কিছু কথা লিখেছেন ফেসবুকে। তা তুলে ধরছি পাঠকদের জন্য-

তিনি লেখেন, ‘হ্যাঁ, সত্যি এখন আমা’র ভ’য় করে হাসপাতা’লে যেতে, ডিউটির পর বাসায় ফিরতে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবো। নিজেকে এই পেশায় বিলিয়ে দিতে কখনো পিছপা হবো না। নিজের অ’সুস্থ বাচ্চা বাসায় রেখেও হাসপাতা’লের বাচ্চাদের চিকিৎসা দিয়েছি। আমা’র নিজের খাওয়া, ঘুম বাদ দিয়ে রোগী দেখতে সমস্যা নেই, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি একদমই ভিন্ন! এখন আমি আমা’র পরিবারের জন্য ঝুঁ’কিপূর্ণ।’

ডা. মুনা লেখেন, ‘আমা’র মাধ্যমে যদি ভাই’রাস বাসায় নিয়ে যাই, তো আমা’র বাচ্চাদের কী’ হবে? বাসার অন্যদের কী’ হবে? তবুও আমি ডিউটি করছি। পালাইনি, পালাবোও না। ভ’য় করে বাচ্চাদের চুমু দিতে, কোলে নিতে। নিজের নিশ্বা’সকেই বিষাক্ত মনে হয়। দুটা বাচ্চাই তো অনেক ছোট। নিজে নিজে খাওয়াটাও শেখেনি। কী’ যে করছে আল্লাহই জানে! তার মধ্যে পিপিই পরে কাজ করাও বিশাল এক যন্ত্র’ণা!’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘মনে হয় মা’থা থেকে পা পর্যন্ত পলিথিনের চাদর পেঁচানো। গরমে অবিরাম ঘাম ঝরতে থাকে। এন৯৫ মাস্ক পরে দম কেমন বন্ধ হয়ে আসে। আর চশমা’র উপর আরেকটা ভা’রী চশমা পরে চোখ, নাক, কান ব্যথায় টনটন করতে থাকে! প্রতিটি ডিউটিই এমন মানসিক আর শারীরিক ক’ষ্টে ভরা। জানি না কতদিন টিকে থাকবো। তবে আমি পালাব না। ডাক্তাররা কখনো পালায় না। ডাক্তারদের পালাতে নেই!’