• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:০১

ডাক্তার মা আইসোলেশনে, দরজার বাইরে শিশুটি তার মাকে ডাকছে


Share with friends

নিজের কিংবা অন্যের সন্তান কাউকেই এতিম করে ফেলার অধিকার আমাদের কারও নেই! ছবিটির এই বাচ্চাটি তার ডাক্তার মায়ের জন্য কাঁদছেন! মা তাঁর করো’না রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার পর কোয়ারেন্টাইনে, দরজা খুলছেনা… মা কি পাশের রুম হতে সন্তানের কা’ন্না সইতে পারছে? একজন মা মাত্রই আমি নিশ্চিত এই ছবিটির ম’র্ম অনুধাবন করতে পারবেন! ছবিটি দেখার পর থেকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ছবিটির দিকে! কি অসহায় সন্তান, ডাক্তার মা, ও এই পরিবারটি! কেন মা তাকে পাশের ঘরে থেকেও কোলে নেবে না, আদর করবেনা, খাওয়াবে না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দুনিয়ার কার পক্ষে দেয়া সম্ভব এই ছোট্ট শি’শুটিকে? অ’তএব জগতের সকল বাবা-মা ঘরে থাকুন, সন্তানকে এতোটা অসহায় করে ফেলবেন না, আপনার এক মুহূর্তের অবহেলায়।

এই ডাক্তার মা এর মতো লাখো স্বাস্থ্যকর্মী সহ অন্যান্য কিছু পেশার মানুষজন যাদের আমাদের নিরাপদ রাখতে বাইরে যেতে হচ্ছে, তারা ব্যতীত চলুন আম’রা সবাই বাসায় থাকি। প্রতিদিন বাজার করা থেকে বিরত থাকি, প্রতিদিন পেট ভরে খাওয়ার কিছু নেই, পৃথিবী ব্যাপী লাখো মানুষ না খেয়ে বা কম খেয়ে আছে, তাঁদের কথা একবার ভাবি!

পু’লিশের সাথে লুকোচু’রি খেলার কিছু নেই, উনি উনার সন্তানকে বাসায় ফেলে আমাকে/আপনাকে ঘরে রাখতে বের হয়ে এসছেন জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে, আপনি/আমি তাঁর সাথে মশকরা করছি! নিজে পরিবারের বিপদ ডেকে আনছি, আবার উনাকেও বিপদে ফেলছি! আমাদের কি অধিকার আছে তা করার?

আসুন ঘরে থাকি আর করো’নার উপশম থাকলে বা স’ন্দেহ হলে ডাক্তারদের কাছে না লুকিয়ে রাখি| প্লিজ, এই স্বাস্থ্যকর্মী মায়েদের-বাবাদের বাঁচতে দেই, এভাবে ছোট ছোট সন্তানদের এতিম বানিয়ে ফেলার মতো গর্হিত কাজ না করি| নিজের সন্তান কিংবা অন্যের সন্তান কাউকেই এতিম করে ফেলার অধিকার আমাদের নেই| আপনার লুকানো তথ্যের কারণে এভাবে কত অবুঝ সন্তান তাঁদের বাবা মা হারাবে, দেশ হারাবে স্বাস্থ্যকর্মী, আর আম’রা হারাবো তাঁদের, যাদের সেবা আমাদের এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার ল’ড়াইয়ে সবচেয়ে বেশী দরকার!

সারাদেশে সর্বমোট আ’ক্রান্ত চিকিৎসক ১৫৫ এবং মোট ৪০০ এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী করো’না পজিটিভ! এই সংখ্যাটি যত বাড়বে ততো কিন্তু আম’রা বিপদে পড়বো, এই বিপদ হতে তখন রক্ষা করার জন্য আর কোন উপায় থাকবেনা!

ছবি: ডা.শাহ’জাহান নাজির

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)