• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১ | ৬ বৈশাখ, ১৪২৮ | ৭ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৯:৩১

ঢাকার প্রত্যেকটা ম’সজিদে এসি অথচ ফুটপাতে অসংখ্য অভুক্ত বনী আদম


Share with friends

ঢাকার প্রায় প্রত্যেকটা ম’সজিদে এসি, ফ্লোরে দামী মা’রভেল পাথর। অথচ ফুটপাতে অসংখ্য বনী আদম অভুক্ত, বস্ত্রহীন। এর জন্য দায়ী এই শহরের পেশাদার ই’মাম শ্রেণি।

Home2 Side ads

এরা বেছে বেছে ম’সজিদে দান-সদকা বিষয়ক হাদিস শুনায়, আর মু’সল্লিদের বলে ম’সজিদে দান করতে। এমনকি সরকারি ম’সজিদগু’লিতেও টাকা তোলা হয় পাবলিকের কাছ থেকে। ম’সজিদ কমিটি ই’মাম নিয়োগ দেয়ার সময় খেয়াল করে ই’মাম টাকা সংগ্রহ করতে পটু কিনা।

Home2 Side ads
Home2 Side ads

আল্লাহ সুরা সফে বলেছেন, নিজে যে কাজ কর না, তা অন্যকে করতে বলো না, অধিকাংশ ই’মাম এই আয়াতের উল্টাটা করে, নিজে কখনো দান করে না, পাবলিকরে বলে দান করতে। আমি কদাচিৎ দেখেছি কোনো ম’সজিদের ই’মাম সেই ম’সজিদে দান করেছে, আপনি দেখেছেন কাউকে? পাবলিকের সেন্টিমেন্টটাই এরা চেঞ্জ করে ফেলেছে। পাবলিক ৫০০ টাকা দান করলে ৪৯৯ টাকা করে ম’সজিদে, ১ টাকা দেয় ম’সজিদের সামনে দাঁড়ানো ভিক্ষুককে। অথচ হওযার কথা ছিল উল্টোটা।

ই’মাম’দের এই ভূমিকার কারণ কি? কারণ সহ’জ, ম’সজিদের ফান্ড বাড়লে তাদের বেতনও বাড়বে। তারা ম’সজিদে পেশাদার ই’মাম। কে ফুটপাতে থাকল, কে ল্যাংটা থাকল সেটা তাদের দেখার বিষয় না।

আপনি যদি জ’রিপ করেন, দেখবেন ম’সজিদের দানের শতকরা ৯০ টাকা হচ্ছে অ’বৈধ রোজগারের টাকা, ঘুষখোর বা দু’র্নীতিবাজদের টাকা। এরা দান করে রাতে ভালোমত ঘুমানোর জন্য। সকালে ৫ লাখ ঘুষ খেয়ে এশার নামাজে ম’সজিদে ৫০ হাজার দান করে মনের খুতখুতানি দূর করার জন্য। ই’মাম নিজেও জানে, এই টাকা ঘুষের টাকা, তবু জো’রেসোরে আলহাম’দুলিল্লাহ বলে। এইসব অ’বৈধ রোজগারের টাকায় ই’মামের বেতন বাড়ে, ই’মাম তাই মনের ভুলেও জুমা’র খুতবায় ঘুষের বি’রুদ্ধে হাদিস শুনায় না।

“আপনি যা খাবেন, আপনার চরিত্রে তার প্রভাব পড়বে।” you eat junk food, you behave junky. এটা স্বতসিদ্ধ। এর বাস্তব দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের এইসব ই’মাম’রা। এদের রিযিক হালাল না, তাই এদের চরিত্রে মোসাহেবি স্বভাব বিদ্যমান। এরা কথা বলে বিলাইর মত মিউ মিউ করে। কারো বি’রুদ্ধে না যায় এমন কোনো টপিক নিয়ে আসে জুমা’র খুতবায়। দেখেন না রাজনৈতিক নেতারা তাদের দাঁড়া করিয়ে মিম্বারে বসে থাকে।

চেতিয়েন না, কড়া কথা বললাম। কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে। আমিই না হয় বললাম। তবে হা, সব ই’মাম এরকম না, ব্যতিক্রম আছেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা এত কম যে হাতের কড়ে গোনা যায়। দুঃখটা এখানে।

আমা’র সাথে ই’মাম’দের জমি-জমা’র ক্যাচাল নাই। আমি নিজেই পার্টটাইম ই’মামতি করেছি নানা জায়গায়। আমা’র বাবাও ম’সজিদের ই’মাম, খতিব, তবে পেশাজীবী না। ৩০ বছরের অধিক সে বিনা টাকায় ই’মামতি করেন। নিজেই ম’সজিদের প্রতিষ্ঠাতা। এ কারণে কথা বলার সময় মোসাহেবি করা লাগে না তার।

আরবি শব্দ ই’মাম মানে হল নেতা, লিডার। লিডার কথা বলবে সিংহের মত, বিড়ালের মত মিউ মিউ করে না। সিংহ কখন মিউ মিউ করে জানেন?
যখন সে বিড়ালের মত ছানাভাত বা উচ্ছিস্ট খায় তখন। যে যা খাবে তার চরিত্রে তার প্রভাব পড়বেই পড়বে।

single page ads 3