• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১২:৪৩

নিউইয়র্কে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজান দেওয়া সেই গিয়াস উদ্দিনের মৃ’ত্যু


Share with friends

রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজান দেওয়া- ব্রঙ্কসের বিশিস্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীন। নিউইয়র্কে যে ক’জন লোক কমিউনিটির বর্তমান কোলাহলের সূত্রপাত করেন তিনি এর মধ্যে একজন।

করনার লক ডাউন শুরু হলে ব্রঙ্কসের সড়কপথে অন্যদের সাথে দাঁড়িয়ে আজান দিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন আল্লাহর অনুগ্রহ। কমিউনিটির অন্তপ্রা’ণ মানুষ ছিলেন গিয়াসউদ্দিন। করোনার ছোবলে ১০ এপ্রিল শুক্রবার ভোর রাতের দিকে তিনি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন।

শেষ রাতের দিকেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে,বিশিস্ট ব্যবসায়ী, ছাতক সমিতির সাবেক সভাপতি, স্টারলিং বাংলাবাজার বিজনেস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট,বাংলা বাজার জামে ম’সজিদের সভাপতি, এ এ ডাবল ডিসকাউন্ট সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীন আর আমাদের মাঝে নেই।

(ইন্না লিল্লাহে ….রাজিউন) তিনি ১০ এপ্রিল রাত ২.১৫ মিনিটে ব্রঙ্কসের আইনস্টাইন হাসপাতালে ইন্তি’কাল করেছেন। তাঁর ছে’লে আমিন উদ্দীন, কমিউনিটি নেতা আলমাস আলী মৃ’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

মৃ’ত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী’,২ ছে’লে ১ মেয়ে ৪ ভাই ২ বোন সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।তাঁর দেশের বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের ছাতকে। তিনি করোনা ভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীন দীর্ঘ ৩৮ বছর যাবত প্রবাস জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে পাড়ি জমান ইরানে। সেখান থেকে জার্মানীতে। তারপর ১৯৮২ সালে তিনি যুক্তরাস্ট্রে অ’ভিবাসী হন।

আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীনের প্রবাসে ৩৮ বছর পুর্তি উপলক্ষে গত ২৬ জানয়ারি ব্রঙ্কসে বাংলাদেশ-আমেরিকান স্টাডি সেন্টার এক বর্নাঢ্য সংবর্ধনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলম্যান রুবিন ডিয়াজ সিনিয়র, সাবেক এসেম্বলিম্যান এরিক স্টিভভেনসন সহ কমিউনিটির বিশিস্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন।

কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে ক্রেস্ট, প্রক্লেমেশান প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। কমিউনিটির বিশিস্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নানা সংগঠন তাকে অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করে ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি পবিত্র ম’ক্কায় উম’রাহ পালন ও ম’দীনায় নবী মোহাম্ম’দ (সা:) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। মা’র্চ মাসের শেষের দিকে তিনি করোনাভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শুক্রবারও দেশটিতে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রা’ণ হারি’য়েছে। এর আগে করোনায় বিশ্বের আর কোনও দেশে একদিনে এত বেশি সংখ্যাক মানুষ প্রা’ণ হা’রায়নি।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দেয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২ হাজার ১০৮ জন করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সবমিলিয়ে মা’রা গেছেন ১৮ হাজার ৭৪৭ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা ইতালির মৃ’ত্যুহারের কাছাকাছি।

ইতালিতে করোনায় সবমিলিয়ে ১৮ হাজার ৮৪৯ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র করোনায় মৃ’ত্যুতে যে কোনও সময় ইতালিকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে যাচ্ছে। এখন প’র্ন্ত ইউরোপের এই দেশটিতেই করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে।

এদিকে করোনায় আ’ক্রা’ন্তের তালিকায় এখনও সর্বোচ্চ স্থানটি ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবারও সেখানে নতুন করে কোভিড-১৯য়ে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে দেশটিতে মোট করোনা ভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৮৭৬য়ে।