• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৪:০২

পাঁচ ভুলে ভয়াবহ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি


Share with friends

করো’না মোকাবেলার ক্ষেত্রে নিঃস’ন্দেহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হচ্ছে নেতৃত্ব দানকারী মন্ত্রণালয়। কিন্তু করো’না এমন একটি মহামা’রি, এমন একটি ব্যাধি যেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

করো’না মোকাবেলার সবথেকে বড় অ’স্ত্র হলো সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা সামাজিক দুরত্ব। আর এই সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণের কাজটি হয় সম্বলিতভাবে এবং সরকারের থেকে এখানে বেশি দায়িত্ব রয়েছে জনগণের।

কিন্তু নানা কারণেই হোক, গত ২৬শে মা’র্চ থেকে সামাজিক দুরত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে সেই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রতিপালিত হচ্ছেনা।

বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, পাঁচটি কারণে আম’রা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানতে পারছি না। আর এর ফলে ভ’য়াবহ হয়ে উঠছে করো’না পরিস্থিতি।

১. বিদেশ প্রত্যাগতদের এখনো শনাক্ত করতে না পারা

গত মা’র্চ থেকে বাংলাদেশে বিদেশ থেকে লোক এসেছে ১০ লাখের উপরে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং ইতালি থেকে এসেছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। এই লোকগুলো কোথায়? তাঁরা কোন পর্যন্ত গিয়েছেন এবং তাঁদের তালিকা তৈরি করে তাঁরা কাদের সংস্প’র্শে এসেছেন সেসকল মানুষদের চিহ্নিত করা জরুরী। এদের মাধ্যমেই সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে বিদেশ ফেরতদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়নি, যার ফলে করো’নার ভ’য়াবহতা কমছে না, বরং বাড়ছে।

২. গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে নৈরাজ্য

করো’নায় সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁ’কি বেড়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কারণে। যখন প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন, তখন অন্যান্য শিল্প কারখানার মতো গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোও ছিল। কিন্তু এই গার্মেন্টসগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ৫ এপ্রিল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং শ্রমিকদের ফোন করে বলা হয় ঢাকায় আসার জন্য। গার্মেন্টস শ্রমিকরা তখন পায়ে হেঁটে এবং যে যেভাবে পারে ঢাকায় ফেরেন। তখন সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সব নিয়ম নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁ’কি বেড়েছে। এখনো গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকায় বি’ক্ষোভ করছে বেতন-ভাতার দাবিতে এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানা হচ্ছেনা। ফলে এখান থেকে সামাজিক সংক্রমণের ভ’য়াবহ ঝুঁ’কি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. বাজার-হাট খোলা রাখা

সরকার সাধারণ ছুটির আওতায় বাজার-হাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বাজার-হাটগুলো এখন পরিণত হয়েছে সামাজিক সংক্রমণের কেন্দ্রে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতার রীতি না মেনে অবাধে মেলামেশা করছে। বিশেষ করে শহরতলীতে বাজারগুলো সামাজিক সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁ’কি তৈরি করছে এবং এটা খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের ফলে সামাজিক সংক্রমণের ভ’য়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

৪. ত্রাণ বিতরণের নামে লোক জড়ো করা

শুরু থেকেই গরীব মানুষ ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মূল কারণ। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই গরীবদের জন্য নানা রকম প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, কিন্তু কিছু অ’তিউৎসাহী মানুষ লোক দেখানোর জন্য ত্রাণ বিতরণের নামে মানুষ জড়ো করছেন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাঁ’ধাগ্রস্ত করছেন। এর ফলে লোকজনের মধ্যে মেলামেশা হচ্ছে এবং সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁ’কি বাড়ছে। প্রথম থেকেই ওএমএস-এর চাল বিতরণ এবং টিসিবির খাদ্য বিতরণে যে দীর্ঘ লাইনগুলো দেখা গেছে, সেই লাইনগুলোতে সামাজিক দুরত্বের কোন নিয়ম-নীতি মানা হয়নি। যার ফলে করো’না সংক্রমণের ঝুঁ’কি বেড়েছে।

৫. ব্যাংক খোলা রাখা

অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁ’কি বাড়িয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। তাঁরা মনে করেন যে, ব্যাংকগুলোতে মানুষদের উপচে পড়া ভিড় এবং সামাজিক দুরত্বের নিয়ম-নীতি না মানার কারণে ব্যাংকগুলো সামাজিক সংক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আর এই সমস্ত ভুলের কারণে বাংলাদেশে করো’নার সামাজিক সংক্রমণের ধাপে প্রবেশ করেছে। এই অবস্থা অব্যহত থাকলে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে করো’না সংক্রমণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশ’ঙ্কা করছেন।