• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:০৩

পু’লিশের সাহায্য ফিরিয়ে উল্টো ১০ হাজার টাকার চেক দিলেন বৃদ্ধ


Share with friends

নিয়মমতো টহল দিচ্ছিল পু’লিশের গাড়ি। আচ’মকা জানালা দিয়ে ডেকে গাড়ি থামালেন ভা’রতের অশীতিপর বৃদ্ধ। পু’লিশ ক’র্তারা স্বভাবতই ভেবেছিলেন, কোনও বিপদে পড়েছেন বৃদ্ধ। চাইছেন সাহায্য। শশব্যস্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু এর পরেই বিস্ময় আর মুগ্ধতার যুগপৎ সমাপতনে কার্যত স্থির হয়ে যান তাঁরা। সাহায্য চাইতে নয়, সাহায্য করতে পু’লিশদের ডেকেছেন বৃদ্ধ। কাঁপা হাতে এগিয়ে দিলেন ১০ হাজার টাকার চেক।

৮২ বছরের এই প্রাক্তন অধ্যাপকের এই অ’পার মহত্বের কথা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই’রাল। জানা গেছে, সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এই বৃদ্ধের বাস দম’দম এয়ারপোর্টের কাছে। তাঁর জীবনধারণের প্রয়োজনীয়টুকু আসে পেনশন থেকে। বাকিটা জমে সামান্যই। সেখান থেকেই এই চেক রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিলেন তিনি। সেতু বাঁধল পু’লিশ

বিধাননগর কমিশনারেটের এক পু’লিশ ক’র্তা বলেন, “আম’রা সত্যিই প্রথমে ভেবেছিলাম, উনি সাহায্য চাইছেন। তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাই এত বয়স্ক মানুষকে জানলা দিয়ে হাত নাড়তে দেখে। কিন্তু তার পরেই আমাদের অ’বাক হওয়ার পালা।”

পু’লিশদের গাড়ি থামিয়ে, তাঁদের বাড়ির ভিতরে ডাকেন বৃদ্ধ সুভাষবাবু। ডেকে জানান, এখু’নি তাঁর কোনও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তিনি রাজ্য সরকারের করো’না মোকাবিলা ফান্ডে কিছু অর্থ সাহায্য করতে চান। তখনই উপরতলার ক’র্তাদের সঙ্গে কথা বলেন পু’লিশকর্মীরা। সম্মতি আসে দান গ্রহণের। ১৯৯৮ সালে দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়া মানুষটি কাঁপা হাতে ১০ হাজার টাকার চেক লিখে এগিয়ে দেন পু’লিশের দিকে।

বৃদ্ধের কথায়, ‘সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এই মহামা’রী কালে কিছুই করতে পারছি না, এটাও আমা’র অস্বস্তির কারণ। আমি উপায় খুঁজছিলাম অর্থসাহায্য করার। এটুকুই আমা’র পক্ষে সম্ভব। কিন্তু আমি সশরীরে যেতে পারতাম না। তাই পু’লিশদের দেখতে পেয়ে ডেকে নিই। আরও কিছু দেওয়ার ইচ্ছে ছিল আমা’র। কিন্তু ওষুধ আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই সব বেরিয়ে যায়।’

পু’লিশক’র্তা বলেন, ‘আম’রা আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম এই কাজ দেখে। কিন্তু উল্টে উনি আমাদের বলেন, যে উনি আমাদের ডেকে এনেছেন বলে আর অনলাইন লেনদেন করতে পারেন না বলে উনি দুঃখিত। এই সৌজন্য ও বদান্যতা ভাবা যায় না আজকের দিনে।’

নেটিজেনরা বলছেন, লক্ষ-লক্ষ টাকার সাহায্যও ফিকে হয়ে যাবে এই চেকটির কাছে। এটি শুধু টাকার অঙ্ক নয়, এটি একটি মানুষের জীবনের শেষ ভাগে পৌঁছেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।