• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

সন্ধ্যা ৭:০৩

বরাদ্দ ১০ কেজি, চেয়ারম্যান দিলেন ৪ কেজি চাল


Share with friends

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব’ন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ করে সরকার। তবে এক চেয়ারম্যানের বি’রুদ্ধে দুস্থদের ১০ কেজির পরিবর্তে চার কেজি করে চাল দেওয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে।

Home2 Side ads

গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজে’লার বেরুবাড়ি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে চার কেজি করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম আব্দুল মোতা’লেব। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সুবিধাভোগীদের ওপর চড়াও হন ইউপি চেয়ারম্যান মোতা’লেব।

Home2 Side ads
Home2 Side ads

ভিজিএফ কার্ডধারী বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নূর-ইস’লাম বলেন, আমা’র একটি কার্ডের বিপরীতে সাড়ে চার কেজি চাল দিয়েছেন চেয়ারম্যান আব্দুল মোতা’লেব। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভিজিএফ কার্ডধারী এরশাদুল হক বলেন, আমাকে চার কেজি চাল দেয়া হয়েছে। ১০ কেজি চাল দাবি করলে আমাদের ওপর চড়াও হন চেয়ারম্যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যক্তি জানান, আমা’র পরিবারে দুটি কার্ড দেয়া হয়েছে। সেই দুই কার্ডের বিপরীতে সাত কেজি চাল দেয়া হয়েছে। ১০ কেজি করে চাল চাইলে আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন চেয়ারম্যান।

চাল
বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রতি কার্ডে নয় কেজি করে চাল দেয়ার কথা চেয়ারম্যানের। বিতরণের সময় আমি পরিষদে ছিলাম না, চাল কম দিয়েছে কিনা জানি না। তবে আমা’র এক প্রতিবেশী সাত কেজি চাল পেয়েছেন। এতে বোঝা যায় চাল কম দেয়ার ঘটনা সত্য।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলবার হোসেন বলেন, আমা’র ওয়ার্ডের সব পরিবার এক মাসের ওপরে পানিব’ন্দি। প্রায় ৫০০ পরিবার অসহায় অবস্থায় আছে। অথচ আমাকে দেয়া হয়েছে ৩৫০টি কার্ড। সেগুলো আবার চু’রি হয়ে যায়। পরে আমি উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার সঙ্গে পরাম’র্শ করে সাদা কার্ড তৈরি করি। চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরাম’র্শ করে সেখানে ১০০ কার্ড বেশি করেছি। পরে চেয়ারম্যান ৩৫০ কার্ডের চাল সবার মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন। এই কারণে চাল কম হয়েছে।

চাল কম দেয়ার বিষয়টি জানতে বেরুবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতা’লেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। নাগেশ্বরী উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) নূর আহম্মেদ মাছুম বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চাল কম দেয়ার বিষয়টি শুনেছি। যারা চাল কম পেয়েছেন তারা অ’ভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রামের জে’লা প্রশাসক (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ভিজিএফের চাল কম দেয়া কিংবা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি অনিয়ম করেন তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, বেরুবাড়ি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার ২১২ জন সুবিধাভোগীর বিপরীতে ৫৫ দশমিক ১২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। নাগেশ্বরীর একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৮৩ হাজার ৭৫০ সুবিধাভোগীর বিপরীতে ৮৩৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

single page ads 3