• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:৩৬

বিয়ের পর থেকেই স্বামীকে ছেড়ে আলাদা থাকছেন পরী!


Share with friends

স্বামীকে ছেড়ে আলাদা থাকছেন পরী- ছোটপর্দার নির্মাতা কাম’রুজ্জামান রনিকে গত ১০ মা’র্চ রাতে রাজারবাগ কাজী অফিসে চুপিসারে বিয়ে করেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। তারও ১০ দিন পর ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে বিয়ের খবর জানান এই অ’ভিনেত্রী।

কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সারা বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস আ’ত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কা’রণে নয়া স্বামীর কাছে যেতে পারছেন না পরীমনি। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং সেরে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় ফিরেছেন নায়িকা।

কিন্তু করোনার ঝুঁ’কি এড়াতে ব’ন্দি রয়েছেন বনানীর বাসায়। নিজেকে পুরোপুরি ‘লকড’ করে রেখেছেন পরীমনি। যার ফলে দূরে রয়েছেন স্বামী রনির কাছ থেকেও। রনিও রয়েছেন নিজের বাসায়।

নতুন বিয়ে করেছেন, অথচ স্বামীর কাছে যেতে পারছেন না, বিষয়টা কতটা ক’ষ্টের পরীর কাছে? নায়িকার ভাষ্য, ‘জীবন আর সুস্থ থাকা’টা সবকিছুর উর্ধ্বে। আগে এই সং’কটের সময়টা কে’টে যাক। স্বামীর থেকে দূরে থাকা’টা ক’ষ্টের হলেও দুজনের ভালোর জন্য এটুকু মেনে নিতেই হবে।’

প্রসঙ্গত, অ’ভিনেত্রী ও নির্মাতা হৃদি হকের ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ ছবির সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন কাম’রুজ্জামান রনি। সে ছবিরই একটি প্রধান চরিত্রে অ’ভিনয় করছেন পরীমনি। এ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সখ্যতা গড়ে ওঠে পরী ও রনির। একপর্যায়ে রনিই বিয়ের প্রস্তাব দেন পরীকে। সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করতে পারেনি নায়িকা।

১০ মা’র্চ রাতে রাজধানী রাজারবাগ এলাকায় তাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে পরীমনিকে বিয়ে করেছেন রনি। মু’সলিম আ’ইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের একটি অন্যতম শর্ত। দেনমোহর স্বামী কতৃর্ক স্ত্রী’কে পরিশোধযোগ্য একটি আ’ইনগত দায়।

দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রী’র পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সাম’র্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয়, যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয়, যা স্ত্রী’র আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না। তবে নামমাত্র টাকা দেনমোহরে কেন বিয়ে করলেন সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্য পরীমনি নিজেই দিয়েছেন।

‘জানেন, আম’রা ৩ টাকায় বিয়ে করেছি। কি, কিউট না? আমাদের বিয়ের দেনমোহর ৩ টাকা’-এভাবেই নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি।

দেনমোহরের বিষয়ে পরীমনির ভাষ্য– ‘অনেক হিসাব-নিকাশ করে তো জীবনের পরিকল্পনা করাই যায়। কিন্তু জীবন চলে তার নিজস্ব পথে। জন্ম, মৃ’ত্যু ও বিয়ে– সবই আল্লাহর হাতে, এটি আমি খুবই মানি। আমা’র কাছে মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বা’সও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটির ওপর নির্ভর করে মানুষ তার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, এখন বিয়ের শুরুতেই বলে দেয়া হয়– দেনমোহর কত হবে? ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে এগুলো আবার দিতে হবে। এগুলো কিন্তু একটা মানসিক চা’প হিসেবে মা’থায় ঢুকে যায়। ছাড়াছাডি নিয়ে চিন্তার চেয়ে আমা’র কাছে বন্ধনটা খুব জরুরি। জীবনের অনেক কিছু হিসাব-নিকাশ করে হয়; কিন্তু বিয়ের মতো বড় বিষয়ে হিসাব-নিকাশ চলে না। আমি খুবই খুশি।