• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৩:০২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধানকাটার উৎসব


Share with friends

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ধানকাটা শুরু হয়েছে।

অন্যান্য বছর বিভিন্ন জেলা থেকে ধানকাটার শ্রমিক আসলেও চলতি বছর নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভারের কারণে বহিরাগত শ্রমিক এসেছে অনেক কম।

বহিরাগত শ্রমিক কম থাকায় স্থানীয় কর্মহীন অকৃষি শ্রমিক ও অত্যাধুনিক ধানকাটা মেশিন ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ দিয়ে ধানকাটা হচ্ছে।

বাইরে থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রমিক না আসলেও জেলায় ধানকাটায় সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা অফিস জানিয়েছে, বহিরাগত শ্রমিক কম থাকলেও স্থানীয় অকৃষি শ্রমিক থাকায় ধানকাটায় সমস্যা হচ্ছে না। এছাড়া মেশিন দিয়েও ধানকাটা হচ্ছে।

সরেজমিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, অকৃষি শ্রমিকেরা ধান কাটছেন। সরাইল উপজেলার ধরন্তি হাওরে এমনি কয়েকজনকে ধান কাটতে দেখা যায়; তারা মূলত অন্যপেশার মানুষ। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রও রয়েছেন। এমনি একজন হাসান মিয়া; তিনি ঢাকার একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজ করেন। করোনার কারণে হোটেল বন্ধ থাকায় একমাস ধরে নিজ বাড়িতে চলে এসেছেন। বাড়িতে বেকার থাকায় ধান কাটছেন। তিনি বলেন, ধানকাটায় তার অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

স্কুলছাত্র মামুন জানায়, সে স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ। তাই বাবাকে সহযোগিতা করার জন্য ধান কাটতে এসেছে।

আরেক শ্রমিক মহরম আলী ভূইয়া জানান, তিনি চট্টগ্রামে হকারের কাজ করেন। বর্তমানে বেকার। আগে কখনো ধান কাটেননি। ফজল মিয়া জানান, তিনি জেলা শহরে রিকশা চালান। এখন প্রতিদিন ধান কেটে চারশত টাকা ও দুইবেলা খাবার পাচ্ছেন।

ধরন্তি হাওরের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ধানকাটার মৌসুমে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে শ্রমিক আসতেন। এ বছর তেমন কেউ আসতে পারেননি। তাই এলাকার অন্যান্য পেশার কর্মহীন মানুষকে দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ধানকাটার শ্রমিক ধাপে ধাপে আসতেন। এবার ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিক এসেছেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কর্মহীন অকৃষি শ্রমিকেরা ধানকাটায় এগিয়ে এসেছেন।

বহিরাগত শ্রমিক যারা এসেছেন, তারা সরকারি স্বাস্থবিধি মেনেই ধান কাটছেন বলে জানান তিনি।

রবিউল হক বলেন, তারা কৃষকের সঙ্গে কথা বলছেন, কৃষকরা যদি অন্যান্য জেলা থেকে ধানকাটার শ্রমিক আনতে চান, তাহলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হবে।

সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে কৃষকরা ধান গোলায় তুলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, আগে যেমন বহিরাগত শ্রমিকরা ধান কাটতে আসতেন, এবার সেই সংখ্যা কম। তবে সব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।