• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১১:৪৪

যেভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তাইওয়ান


Share with friends

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, ১৯ এপ্রিল ২০২০

করোনার জন্মভূমি উহানের খুব কাছে হওয়ার তাইওয়ানে ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। অথচ, দেশটিতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এখনো চারশ’র নিচে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছে মাত্র ছয় জন। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৭৮ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাইওয়ান ভাইরাসকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বজুড়ে ২২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন এক লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন মৃত মানুষের তালিকায় যোগ হচ্ছে আট হাজারের বেশি মানুষ। উহানে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর বলা হয়েছিল, চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে তাইওয়ানে এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। অথচ চীনে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও তাইওয়ানে এই সংখ্যা এখনো চারশ’র নিচে। অথচ, চীন ছাড়িয়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে। মহাদেশ পেরিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় মহামারি রূপ নিয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সাত লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত, মারা গেছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ।

‘পাবলিক হেল্থ পলিসি’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ডা. জেসন ওয়াং বলেন, তাইওয়ান সম্ভাব্য সংকটের ভয়াবহতা আগেই বুঝতে পেরেছিল এবং ভাইরাসের চেয়ে এগিয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে। ২০০২ ও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর তাইওয়ান ন্যাশনাল হেল্থ কমান্ড সেন্টার (এনএইচসিসি) গঠন করে পরবর্তী সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়েই ছিল।

উহানে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরপরই তাইওয়ান সরকার চীনের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও হংকং ও ম্যাকাওর উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এছাড়া ওই সময় সরকার সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, যেন তাদের মজুদে সংকট দেখা না দেয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকার ন্যাশনাল হেল্থ ইনস্যুরেন্স এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টম বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সমন্বয় করে। এর মাধ্যমে তারা জনগণের ভ্রমণের তথ্য নিয়ে শুরুতেই সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করে ফেলে। ফলে শুরু থেকেই ভাইরাসটির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হয় দেশটি।

তাইওয়ানে যারা ভ্রমণ করেছেন তাদের জন্যও একটি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। সেখানে একটি ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণের ও অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। তারপর ভ্রমণকারীদের কাছে তাদের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি বার্তা যায়। এভাবে কাস্টম কর্মকর্তারা নিম্ন ঝুঁকির ভ্রমণকারীদের ছেড়ে দিয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকাদের পরীক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে সক্ষম হয়।’

ওয়াং বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করে তাইওয়ান সরকার অনেক কিছু করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা লোকজনের জরুরি প্রয়োজন বুঝে সে অনুযায়ী সেবা দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া জনগণ স্বেচ্ছায় সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করে। ফলে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির পক্ষে সহজ হয়।’

তিনি বলেন, ‘সার্স ভাইরাসের সময় তাইওয়ানের বেশিরভাগ মানুষকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের ওই স্মৃতি এখনো তাজা, যা তাদের করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করেছে।’

কেএ/ডিএ