• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১২:২২

রোগীরা তথ্য গো’পন, আ’ক্রান্ত ডাক্তার-নার্স, ভেঙ্গে পড়ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা


Share with friends

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে রোগীদের উপসর্গ গো’পন করে ভর্তি হওয়ায় করো’না আ’ক্রান্ত হয়েছেন আ’ক্রান্ত হয়েছেন সাতজন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২২ জন। এতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় অন্তত ৫০ ডাক্তার, নার্সসহ শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে। বন্ধ করে দিতে হয় গাইনি, ডায়ালাইসিসিসহ তিনটি ইউনিট।

রবিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে বুধবার (২৩ এপ্রিল) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সাতজন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২২ জন আ’ক্রান্ত হয়েছেন। দিন যতই যাচ্ছে, বাড়ছে করো’না আ’ক্রান্ত রোগী। সেই সাথে আ’ক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও। স্বাস্থ্য কর্মক’র্তারা বলছেন, সেবা নিতে রোগীরা তথ্য গো’পন করায়, বিপদের মুখে পড়ছেন চিকিৎসকরা।

জানা যায়, শেরপুরের নকলা উপজে’লার এক অন্তঃসত্ত্বা এবং গাজীপুরের মা’ওনার এক গার্মেন্ট’কর্মী তথ্য গো’পন করে চিকিৎসা’সেবা নেয়ায় ময়মনসিংহ হাসপাতা’লে কর্ম’রতদের মাঝে করো’না ছড়িয়ে পড়ার আশ’ঙ্কা করা হচ্ছে।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুম’দার জানান, দু’দিনে হাসপাতা’লের ৭ চিকিৎসক ও ১৫ নার্স-আয়া-ক্লিনারসহ ২২ জন আ’ক্রান্ত হওয়ায় আম’রা চিন্তিত। এভাবে করো’নায় আ’ক্রান্ত হতে থাকলে চিকিৎসক-নার্স খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, চিকিৎসা’সেবা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য জরুরি বৈঠক করে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে হাসপাতা’লে না এসে ঘরে বসে চিকিৎসকদের পরাম’র্শ নেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সবাইকে ঘরে থাকারও তিনি আহ্বান জানান। ময়মনসিংহ হাসপাতা’লের ১৪ নং ওয়ার্ড, ডায়ালসিস বিভাগ, আইসিইউ এবং ওয়ানস্টপসহ কয়েকটি বিভাগ লকডাউন করা হয়েছে। কর্ম’রতদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা’সেবা নিয়ে থাকেন। করো’না পরিস্থিতিতে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে।

জে’লা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানান, জে’লায় করো’না আ’ক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নগরীর এসকে হাসপাতা’লের ৮০টি বেড ও ছয়টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধানে করো’না রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে। বর্তমানে জে’লায় আইসোলেশনে ২০ জন, হোম কোয়ারেন্টিনে ৩০৩ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৭৪ জন আছেন।

এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ হাজার ৭৪৩ জন। তিনি জানান, তথ্য গো’পন করে রোগীরা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা’সেবা নেয়ায় এ জে’লায় করো’নার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এসব হাসপাতা’লে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ৮ দিন ডিউটি শেষ হওয়ার পর ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে নতুন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দিতে হচ্ছে।
ফলে আগামী দিনগুলোতে চিকিৎসক সংকটে পড়বে ময়মনসিংহ। ঘরে থাকার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তিনি আহবান জানান।

ময়মনসিংহ জে’লায় করো’না আ’ক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। এর মধ্যে জে’লা সদরে ৩৭ জন, গফরগাঁওয়ে ১২ জন, ঈশ্বরগঞ্জে- ছয়জন, মুক্তাগাছায় পাঁচজন, ফুলপুরে তিনজন, হালুয়াঘাটে দু’জন, নান্দাইলে দু’জন, ভালুকা, ফুলবাড়ীয়া ও ত্রিশাল উপজে’লায় একজন করে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফুলপুর ও ত্রিশাল উপজে’লায় দু’জন মা’রা গেছে। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। করো’নায় আ’ক্রান্তদের মধ্যে গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসক, সাতজন স্বাস্থ্য সহকারী এবং নার্সসহ ১০ জন রয়েছে। হাসপাতালটি লকডাউন করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনে শুধু জরুরি সেবা চালু রয়েছে। হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দু’জন চিকিৎসক এবং মুক্তাগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরেকজন চিকিৎসক আ’ক্রান্ত থাকায় সেখানেও চিকিৎসা’সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ময়মনসিংহ জে’লায় ১৩ চিকিৎসক ও ৩০ জন স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্য সহায়ক আ’ক্রান্ত হয়েছেন।