• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১২:৩২

অসুস্থ বাবাকে দেখতে ২৫০ কিলোমিটার হাঁটলেন ছেলে


Share with friends

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন বেনজামিন নামে এক যুবক। করো’নাভাই’রাসের কারণে বিভিন্ন জে’লা লকডাউনের আগে কিংবা চলার সময় কর্মস্থল থেকে অনেকেই বাড়ি ফিরলেও তিনি যেতে পারেননি। এর মধ্যেই খবর আসে বাবা অ’সুস্থ। তাই নিরুপায় হয়ে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়ি ফেরেন তিনি।
ওই যুবকের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজে’লার বিহারকোল এলাকায়। তার বাবা আইজ উদ্দিন পৌর কাউন্সিলর। ১৪ এপ্রিল তিনি আশুলিয়া থেকে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ একটানা হেঁটে ৩৬ ঘণ্টায় শুক্রবার ভোরে নিজ গ্রামে পৌঁছান। শুধু নৌকায় চেপে তাকে যমুনা নদী পার হতে হলো।

বেনজামিন বলেন, লকডাউনের শুরুতে অনেকেই পণ্যবাহী গাড়িতে কিংবা কাভা’র্ডভ্যানে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরলেও বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু কর্মব্যস্ততার মধ্যে সময়মতো বাড়ি ফিরতে পারিনি। বাবার অ’সুস্থের কথা শুনে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই, কিন্তু সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। এছাড়া সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লা’শিও ছিল বেশি। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই বাড়িতে আসতে হয়েছে।

এদিকে বেনজামিনের বাড়ি আসার খবর পেয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করার প্রস্তুতি নেয় স্থানীয় প্রশাসন। রোগে আ’ক্রান্ত শয্যাশায়ী জনপ্রতিনিধি বাবার সেবা করার উদ্দেশ্য ছিল বেনজামিনের। কিন্তু স্বজনদের চাপে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়।

রোববার বিকেলে বাগাতিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেনজামিনকে রাখা হয়। পরদিন এখানে আরো একজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, লকডাউন ঘোষণার পর থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাগাতিপাড়ায় আসতে শুরু করে মানুষ। ফলে করো’না সংক্রমণের ঝুঁ’কি বেড়ে গেলে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়। এসব ফেরত ব্যক্তিদের খুঁজে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করা হয়। উপজে’লায় এরইমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বেনজামিনসহ ২৯ জনকে রাখা হয়েছে। নিজেরা সচেতন হলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রয়োজন হতো না।

তিনি আরো বলেন, যাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাদের দুই-তিনজন ছাড়া সবাইকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের পরিবারকেও খাদ্য সহায়তা দিতে হচ্ছে।