• ঢাকা
  • রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৪:১৯

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা


Share with friends

চলতি রমজানের আজই শেষ শুক্রবার। রমজান মাসের শেষ জুমা মু’সলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। প্রতি শুক্রবার জুমা’র নামাজে মু’সলমানদের বৃহত্তর জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। তাই জুমা’র দিনের মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য অ’পরিসীম। রমজান মাসের জুমাবার আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। পবিত্র কোরআনে জুমা’র নামাজ জামাতে আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে : ‘হে মুমিনগণ! জুমা’র দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বা+-ন করা হয়, তখন তোম’রা আল্লাহর স্ম’রণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোম’রা উপলব্ধি কর।’ (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)।

ফজিলতময় জুমা’র দিন যদি হয় সুন্নাতে ভরপুর, তাহলে জুমা’র ফজিলত পরিপূর্ণভাবে পাওয়ার আশা করা যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমা’র দিন গোসল করল, আগে আগে ম’সজিদে গমন করল, পায়ে হেঁটে ম’সজিদে গেল, ই’মামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো কথা বলল না, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। (মু’সনাদে আহমাদ : ৫৮১)।

জুমা’র দিনে ছয়টি সুন্নাতের কথা হাদিসে এসেছে। (১) ভালো’ভাবে গোসল করা। আম’রা বাংলাদেশের অধিবাসীরা প্রতিদিন গোসল করে অভ্যস্ত। প্রতিদিনের গোসল আর জুমা’র দিনের গোসল এক নয়। জুমা’র দিন গোসল করার সময় সুন্নত পালনের নিয়ত করতে হবে এবং সওয়াবের আশা রাখতে হবে। হাদীসে ভালো’ভাবে গোসল করার কথা বলা হয়েছে। শরীর নাপাক হয়ে গেলে যেমনিভাবে খুব ভালো’ভাবে গোসল করা হয় যেন শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে যায়, ঠিক তেমনিভাবে জুমা’র দিনও ভালো’ভাবে গোসল করে নেবে।

(২) আগে আগে সকাল সকাল ম’সজিদে গমন করা। জুমা’র দিন সাধারণত অফিস-আ’দালত, দোকান-পাট বন্ধ থাকে। মানুষ অবসরই থাকে। তাই আগে আগে ম’সজিদে চলে যাওয়া চাই। অ’পর এক হাদীসে জুমা’র দিন আগে আগে ম’সজিদে যাওয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি গোসল ফরজ হলে যেভাবে গোসল করে জুমা’র দিন ঠিক সেভাবে ভালো করে গোসল করে অ’তঃপর সর্বপ্রথম ম’সজিদে গমন করে, সে একটি উট সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।

এরপর দ্বিতীয়তে যে ম’সজিদে গমন করবে সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। তৃতীয়তে যে গমন করবে সে একটি বকরি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। চতুর্থতে যে গমন করবে সে একটি মুরগি সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। এরপর পঞ্চ’ম নম্বরে যে প্রবেশ করবে সে একটি ডিম সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। (সহীহ বুখারী : ৮৮১)।

(৩) হেঁটে ম’সজিদে যাবে, কোনো বাহনে আরোহণ করবে না। জুমা’র নামাজের জন্য কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটে হেঁটে ম’সজিদে যাওয়া সুন্নত। বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে এ সুন্নত ত্যাগ করবে না। (৪) ই’মামের কাছাকাছি বসবে। আগে আগে ম’সজিদে গেলে ই’মামের কাছাকাছি বসার সুযোগ পাওয়া যায়। তো ই’মামের কাছাকাছি বসাও সুন্নত।

(৫) মনোযোগসহ খুতবা শুনবে। মনে রাখতে হবে, জুমা’র খুতবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আম’রা শুক্রবারে জোহরের সময় জুমা’র নামাজ পড়ি। জোহর পড়ি চার রাকাত কিন্তু জুমা পড়ি দুই রাকাত। জুমা’র খুতবা দিতে হয় বলে দুই রাকাত নামাজ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তো জুমা’র খুতবা দুই রাকাত নামাজের ম’র্যাদা রাখে। তাই জুমা’র খুতবা প্রদান করাও ওয়াজিব, শ্রবণ করাও ওয়াজিব। আম’রা জুমা’র খুতবা খুব মনোযোগসহ শ্রবণ করব।

(৬) অনর্থক কোনো কথাবার্তা বা কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না। ম’সজিদে এসে নীরবে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকব। কোনো অনর্থক কথা বলব না। অনর্থক কোনো কাজও করব না। ম’সজিদে দীনি কথা বলা যাবে। কোরআন তেলাওয়াত করব। যিকির করব। অ’প্রয়োজনীয় কোনো কথা বলব না।

যে ব্যক্তি জুমা’র দিন এ ছয়টি সুন্নত পালন করবে তার ম’সজিদে যেতে যতগুলো কদম ফেলতে হয় প্রতিটি কদমে আল্লাহ তাআলা তাকে এক বছর নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। এক বছর একাধারে দিনের বেলা রোজা রাখলে এবং রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী করলে যে পরিমাণ সওয়াব হবে আল্লাহ পাক তার প্রতি কদমে সে পরিমাণ সওয়াব দান করবেন। ইবাদতের এ মৌসুম রমজানের এর সওয়াব কত গুণ বেশি হবে, তা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এ সুন্নতগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন। রমজান মাসের পরিপূর্ণ রহমত ও বরকত আমাদের উপর নাযিল করুন। আমীন।