• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৫:৫৪

‘আম’রা বিবেককে কবর দিয়ে আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে যে কাজ করি, এটাই তার প্রমাণ।’


Share with friends

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লকডাউন উপেক্ষা করে মা’ওলানা যুবায়ের আহম’দ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। এতে করো’না ভাই’রাসের প্রাদুর্ভা’র ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশ’ঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। চলমান করো’না পরিস্থিতির মধ্যে এত লোকসমাগমের তীব্র নিন্দা করেছে স্থানীয় নগরিক সমাজ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইস’লাম বলেন, ‘আম’রা বিবেককে কবর দিয়ে আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে যে কাজ করি, এটাই তার প্রমাণ। কারণ ধ’র্মীয় আদেশ ও সরকারি আদেশে লোক সমাগম নিষেধ করা হয়েছে। তার পরও এতো লোক সমাগম কেন?

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত লোক কি আকাশ দিয়ে এসে জমায়েত হয়েছে। ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন আর কিছু করার আছে বলে মনে হয় না।

তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, তারা (আইন শৃঙ্খলা বাহিনী) কোথায় ছিলেন। এটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুরো ব্যর্থতা ও এ দায় তাদের বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে জে’লা খেলাফত মজলিশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মা’ওলানা মঈনুল ইস’লাম খন্দকার বলেন, লাখো জনতার ঢল ঠেকাতে আম’রা চেষ্টা করেছিলাম। চেয়েছিলাম জানাজায় যেন লোক সমাগম কম হয়। কিন্তু ওনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এতটাই ছিল, যার কারণে হাজার-হাজার লোকের সমাগম হয়ে যায়।

তিনি বলেন, অধিক লোকের কারণে করো’না সংক্রমণ ঝুঁ’কির কথা আম’রা বুঝি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন একটা সমস্যা হবে না। কারণ যারা ঝুঁ’কিতে আছেন তাদেরকে তো প্রশাসন ঘরেই রেখেছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জে’লা শহরের মা’র্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন। আজ সকাল ১০টায় জানাজা শেষে সরাইল উপজে’লার বেড়তলায় অবস্থিত জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃ’ত্যুকালে তিনি স্ত্রী’, তিন ছে’লে, চার মে’য়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে সরাইল উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ই্‌উএনও) এএসএম মোসা ও সরাইল থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা শাহদাৎ হোসেন টিটু জানান, সরাইলের ছয়টি গ্রামের বেশিরভাগ লোক অংশ গ্রহণ করেছিল বলে আমাদের কাছে খবর আছে। তাই ছয়টি গ্রাম বেড়তলা, বলিবাড়ী, সিতাহরন, শান্তিনগর, মৈশার, টিঘর গ্রাম লকডাউন করা হয়।

আগামীকাল থেকে এই গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রামে যেতে পারবেন না। বাজারে যেতে পারবেন না। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পু’লিশেকে সহযোগিতা করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পু’লিশ সুপার মুহাম্ম’দ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জে’লার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজে’লার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন বেশি অংশ নিয়েছে ওই জানাজায়। ওই সব গ্রামে অ’তিরিক্ত পু’লিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। যেন ওই গ্রাম গুলোর লোকজন ঘর থেকে না বের হতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ছোট পরিসরে জানাজা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জে’লা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, উনারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) আমাদের বলেছিলেন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেটা তারা কেন করেননি কেন? তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।