• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১১:০১

এখনও এমন রিপোর্ট পাইনি, কারও ঘরে খাদ্য নেই : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী


Share with friends

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে দরিদ্র এবং শ্রমজীবী মানুষ। তবে সাময়িক এই সংকটে তারা কেউ না খেয়ে নেই বলে জানিয়েছেন দু’র্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দেশব্যাপী দরিদ্র এমনকি মধ্যবিত্তদের ঘরেও খাবার ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। আগামী তিন মাস পর্যন্ত এভাবে খাদ্যসহায়তা দেয়ার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, ছুটি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়দিন খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং শি’শুখাদ্যের জন্য তিন কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জে’লা প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নিম্নআয়, কর্মহীন এমনকি মধ্যবিত্তদের মাঝেও তা বিতরণ করা হচ্ছে।

ডা. এনাম বলেন, দেশে খাদ্যসংকট যে আসতে পারে ছুটি ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি বিবেচনা করেছিলেন। করণীয় নির্ধারণে তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশের যেসব মানুষ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা কর্মহীন হয়ে যাবে। তাই তাদের খাদ্য এবং অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের নিশ্চয়তা দিতে হবে। একজন মানুষও যেন না খেয়ে থাকে না- তার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারেই সবকিছু চলছে।

এদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপ বলছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরাম’র্শ মানতে গিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই।

শুক্রবার এক সংবাদ বি’জ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দেশের ৬৪ জে’লায় দুই হাজার ৬৭৫ জন মূলত নিম্নআয়ের উত্তরদাতার মধ্যে পরিচালিত ব্র্যাকের এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গত ৩১ মা’র্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে এটি পরিচালিত হয়।

ব্র্যাক বলছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপের ফলে নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার দিক থেকে মা’রাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ চরম দরিদ্রে পরিণত হয়েছেন অর্থাৎ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমা’র নিচে নেমে গেছেন। করোনাভাইরাসের পূর্বে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমা’র নিচে এবং ৩৫ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার ঊর্ধ্বসীমা’র নিচে। এতে বোঝা যায় চরম’দারিদ্র্য আগের তুলনায় বর্তমানে ৬০ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্র্যাকের জরিপের এ তথ্য সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন ড. এনাম। তিনি বলেন, আম’রা জে’লা প্রশাসকদের মাধ্যমে সবসময় খোঁজ-খবর নিচ্ছি বরাদ্দের কত অংশ কোথায় কী’ভাবে বণ্টন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও এমন কোনো রিপোর্ট পাইনি যে, কারও ঘরে খাদ্য নেই।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, আম’রা যেভাবে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছি, আগামী তিন মাস এভাবে খাদ্যসহায়তা দেয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। এরপরও যদি সংকট দেখা যায় তাহলেও তা মোকাবিলা করার মতো সাম’র্থ্য আমাদের আছে এবং আম’রা বিনামূল্যে খাদ্য দিতে পারব।