• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:১৪

করোনায় যারা পাবেন সরকারি নগদ টাকা, পরিপত্র জারি হচ্ছে


Share with friends

কর্তব্যরত প্রশাসনের কোনও কর্মক’র্তা-কর্মচারী করো’নায় আ’ক্রান্ত হলে যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা পাবেন। আর মা’রা গেলে তার পরিবার পাবেন ২৫ লাখ টাকা। এ নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

ইতোমধ্যেই মাঠ প্রশাসনে কর্ম’রত কর্মক’র্তাদের মধ্যে অন্তত ৮ জন করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল পর্যন্ত করো’নায় ৬ জন কর্মক’র্তা আ’ক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার পরই করো’নার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কর্মক’র্তা করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। আ’ক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জ জে’লা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসসুম (৩৫তম ব্যাচ), সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার (৩৬তম ব্যাচ), সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ আবদুল মতিন খান (৩৭তম ব্যাচ)। মতিনের বাড়ী পটুয়াখালীতে।

অ’পর কর্মক’র্তাদের মধ্যে রয়েছেন- গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গো’লাম মোর্শেদ খান পাভেল (৩৩তম ব্যাচ), কি’শোরগঞ্জের ভৈরব উপজে’লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা (৩৪তম ব্যাচ)। সৌদি আরবের লেবার কাউন্সেলর হিসেবে কর্ম’রত ২০তম ব্যাচের কর্মক’র্তা আমিনুল ইস’লামও করো’নায় আ’ক্রান্ত। দুদকের একজন কর্মক’র্তা ইতোমধ্যে মা’রা গেছেন। আরেকজন উপসচিব আ’ক্রান্ত বলে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আ’ক্রান্তদের কথা সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে রোববার জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রশাসনের কোনো কর্মক’র্তা দায়িত্ব পালনকালে করো’নায় আ’ক্রান্ত হলে ৫ লাখ টাকা এবং মা’রা গেলে এর পাঁচগুণ টাকা পাবেন। এ বিষয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে যারা করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা খরচসহ সব ধরনের দায়-দায়িত্ব সরকার বহন করবে। এছাড়া প্রয়োজনে সরকার ঘোষিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হবে। যারা আ’ক্রান্ত হয়েছেন তাদের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যারা মাঠে তাদের সংস্প’র্শে ছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। মাঠ প্রশাসনসহ দেশের সব সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য আগে থেকেই নির্দেশ দেয়া আছে। একজন অফিসারের ওপর অনেক কাজের দায়িত্ব। তাই তারা বেশি আ’ক্রান্ত হয়ে গেলে পুরো দেশের কাজের সমস্যা হবে। নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে দুইজন নতুন কর্মক’র্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করি কাজের কোনো সমস্যা হবে না।’ উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ডিসি অনেক আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে আছেন। এছাড়া কয়েকটি জে’লার আরও কয়েকজন কর্মক’র্তার করো’না টেস্ট করা হয়েছে। ওই টেস্টের ফলাফল শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক আদেশে বলা হয়েছে- করো’নাভাই’রাসের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু আছে। এ কারণে অনেক কর্মক’র্তা-কর্মচারীকে ব্যাংকে গিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। তাদের ঝুঁ’কি বিবেচনায় এবং দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা এবং অনুদান প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি সবাইকে নির্দেশনা মানতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মক’র্তা-কর্মচারী করো’না আ’ক্রান্ত হলে পদভেদে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিমা সুবিধা পাবেন। আ’ক্রান্ত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই এ সুবিধা দিতে হবে এবং পুরো চিকিৎসা খরচ ব্যাংককে বহন করতে হবে। এছাড়া কেউ মা’রা গেলে পদভেদে তার পরিবার পাবে পাঁচগুণ বেশি সুবিধা। ব্যাংককে অনুদান হিসেবে এ অর্থ দিতে হবে এবং তার বেতন-ভাতা এবং অন্য সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না। পাশাপাশি বিশেষ এ সময়ে ব্যাংকে যাতায়াতের সময় কেউ দুর্ঘ’টনায় পড়লে ব্যাংককে পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে।