• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:৩৫

কোন হাসপাতাল রাখেনি, বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃ’ত্যু


Share with friends

প্রথমে নারায়ণগঞ্জের কেয়ার হাসপাতাল তারপর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল সেখান থেকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা পায়নি অন্তঃসত্ত্বা সাজিয়া (২০)। চিকিৎসার অভাবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে অনাগত সন্তানকে নিয়েই মৃ’ত্যুও মুখে ঢলে পরেন সাজিয়া।ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার জয়নাল বেপারী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের মে’য়ে সাজিয়া বেগমের। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো সে। পরিবারের অ’ভিযোগ, হাসপাতাল ভর্তি করতে চায়নি বলেই তার মে’য়ে বিনা চিকিৎসায় মা’রা গেছে।

সাজিয়ার বাবা আব্দুল জলিল জানান, মে মাসের ১৩ তারিখে ছিল সাজিয়ার ডেলিভা’রির তারিখ। সে ডা.পারুলের চিকিৎসাধীন ছিল।সকালে সাজিয়া পা পিছলে পরে গিয়ে অ’সুস্থ হয়ে যায়। দুপুর ৩ টার দিকে সাজিয়াকে তার স্বামী মো. সুমন ও পিতা আব্দুল জলিল প্রথমে কেয়ার হাসপাতাল, তার পরে খানপুর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল। সেখানেও কেউ সাজিয়াকে ভর্তি করতে চায়নি। অগত্যা আবারো ফিরে আসে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে। জোড়া পানির ট্যাংকির সামনের এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও তার চিকিৎসা দিতে কেউ রাজি হয়নি। পরে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাতেই সাজিয়ার মা’রা যায়।

এ সমগ্র ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ জানান, বেঁচে থাকার আশায়, নিজের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সব চেষ্টা। এখন তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে। মহামা’রি করো’না শুধু নিজেই মানুষ মা’রছে না,হরন করেছে অন্যান্য রোগে আ’ক্রান্ত সাধারন রোগীদের প্রা’ণও। কোথাও রোগী নেয়া হলে করো’নাভাই’রাসের ভ’য়ে কেউ ধরেও দেখছে না। এমনকি জীবন রক্ষায় জরুরী ডায়ালাইসিস ও কেমোথেরাপিও পাচ্ছে না কেউ।

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসকরা যেমন সুরক্ষা ছাড়াই করো’না আ’ক্রান্তদের জীবন বাঁ’চাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁ’কি নিচ্ছে।অ’পর দিকে কিছু ক্ষেত্রে অবহেলাও দেখতে পাচ্ছি । দুনিয়ায় আমাদের শেষ ভরসা ও করো’না চিকিৎসায় কর্ম’রত চিকিৎসকদের স্যালুট জানিয়ে অন্য চিকিৎসক ভাই বোনদের বলতে চাই দয়া করে আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়ান। সাধারণত রোগ বালাইয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখু’ন।