• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৫:১৮

চলচ্চিত্রে এখন কোন কাজ নাই, টাকাও নাই, ঢাকাই ছবির এই নায়ক-নায়িকাদের মা’র ঘরে!


Share with friends

ঢাকাই সিনেমা’র এক উ’জ্জ্বল নক্ষত্রের নাম খালেদা আক্তার কল্পনা। ৩৮ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে পাঁচ শতা’ধিক ছবিতে অ’ভিনয় করেছেন তিনি। বলা যায় প্রায় দশ বছর ধরেই অ’ভিনয় থেকে দূরে আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কা’র জয়ী এই অ’ভি’নেত্রী। অ’ভি’নয়ের জন্য এখন ডাক পড়ে না তেমন। অফু’রন্ত অ’বসরে নাট’ক লিখেন ঘরে বসে।

করো’নাভাই’রাসের সক্রমণের এই দিনে ঘর থেকে যখন বের হও’য়ার সুযোগ নেই, তখন কী’ভাবে কাটছে এই নন্দিত অ’ভি’নেত্রীর দিন? কেমন আ’ছেন খালেদা আক্তার কল্পনা? খোঁজ নি’য়ে জানা গেলো, এখন ছে’লের সংসা’রে থাকেন তিনি। ছে’লের বউ সন্তান সম্ভবা। সামনে মা’সে হয়তো নাতি কিংবা নাতনির মুখ দেখবেন তিনি। এক সম’য়ের পর্দা কাঁপানো এই অ’ভি’নেত্রী খোঁজ রাখে না কেউ। না, এ নিয়ে কা’রো প্রতি কোনো অ’ভি’যোগ নেই তার। এই সময়ও চারপাশের মানুষকে নিয়ে ভাবেন।

খালেদা আক্তার কল্পনা বলেন, ‘মানুষকে সহযো’গিতা করার মত আমা’র আর সেই সাম’র্থ্য নাই। চোখের স’মস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ভুগেছি। ভা’রত গিয়ে চি’কিৎসা ক’রিয়েছি। এখন কাজ নাই, টা’কাও নাই। তারপরও কিছু কিছু মানু’ষকে আমা’র পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযো’গিতা করার চেষ্টা করেছি। সেটা আ’মা’র আ’ত্মীয় ও পরিচিতদের মধ্যেই করেছি। আমা’র ক’ষ্ট লাগছে আমি সেই ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারিনি।’

যারা মানু’ষের পাশে দাঁ’ড়াচ্ছে, সহ’যোগী’তা করছেন তাদের প্রতিও ভালোবাসা জানিয়েছেন এই প্রবীণ অ’ভি’নয় শিল্পী।

খালেদা আ’ক্তার কল্প’না বলেন, ‘করো’নায় মৃ’ত্যু’র সংখ্যা বাড়ছে ,আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা বাড়ছে। কত লোক বেকার, টাকা-প’য়সা নাই, কা’জ’কর্ম নাই, খাওয়া নিয়ে চিন্তা। ত্রাণ দিচ্ছেন সর’কার। এছাড়াও অনেক স’চ্ছল ব্যক্তি’রাই এগিয়ে আসছে’ন, অস’হায়’দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। অনেক প্র’তিষ্ঠান মানুষের সহ’যো’গিতায় এগিয়ে আস’ছে। এসব দেখে খুব ভালো লাগছে।

তবে যারা স’হযোগি’তা করছেন তারা আর কত দিনইবা করতে পারবেন! আবার যারা সহযো’গিতা নিচ্ছেন, কতদি’ন চলবে এসব খাবার দিয়ে তাদের। আবা’র অনেক মানুষ আছেন তারা কারও কাছে চাই’তেও পারছেন না; তাদে’র কি হবে! আবার অনেকে আছে তারা চাইলেও বি’শ্বা’স করবে না কেউ! লোকে বলবে, আপ’নারও সাহায্য দরকার। যারা চাইতে পারছে না তাদে’র জন্য আরো বেশি সম’স্যা।’

চিকিৎসক, পু’লিশ, সেচ্ছ্বা’সেবদের প্রতি কৃ’তজ্ঞতা জানিয়ে খালেদা আক্তা’র কল্পনা বলেন, ‘আমা’দের চিকিৎসক, নার্স, পু’লিশ প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক,দল বা এরকম আরো যারা আছেন। যারা জীবন বাজি রেখে করো’না ভা’ই’রাসের প্র’তিরোধে এগিয়ে আসছেন। সেসব ক’রোনা’যোদ্ধাদের অনেক অনেক শ্র’দ্ধা জানাই। উ’নাদের প্র’তি অনেক ভালো’বাসা রইলো। অনেক চিকিৎস’কও আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন করো’নায়। উনারা যে’টা কর”ছেন তার তুল’না হয় না। মানবি’কতার পরিচয় দিচ্ছে’ন তারাই, উনাদের প্রতি অনেক ভালোবা’সা।’

এখনো যারা সচে’তন না হয়ে ঘোরা’ঘুরি করছেন বাইরে তাদে’র উদ্দে’শ্যে খালে’দা আক্তার কল্পনা বলেন, ‘যারা শিক্ষি’ত সচে’তন তারা নিয়’ম মান’ছেন। আবার কোয়া’রেন্টা’ইন মানছে না তা’দের সংখ্যা’ও কম নয়। তারা তো রাস্তায় রাস্তা’য় ঘুরছে। এত বলেও তো কাজ হচ্ছে না। যারা এলো’মেলো ঘো’রাঘুরি করছে, তারা যদি কথা শুনতো তাহ’লে ওদের জন্য ভা’লো হতো, আমাদে’র জন্যও ভাল হত। খুব তাড়াতাড়ি আম’রা ক’রোনা’ভাই’রাসের এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে পারতাম।’

১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের স’ন্ধানে’ কা’র্যক্রমের মাধ্যমে চল’চ্চিত্রের সাথে সম্পৃ’ক্ত হন কল্পনা। মিজানুর রহ’মানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে প্রথম অ’ভিনয় করলেও তার অ’ভিনীত প্রথম মুক্তি’প্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে মতিন রহ’মানের ‘রা’ধাকৃষ্ণ’। নায়করাজ রাজ্জাক প’রিচালিত ‘জিনে’র বাদশা’ চল’চ্চিত্রে অ’ভিন’য়ের জন্য তিনি প্রথম জা’তীয় চলচ্চিত্র পুরস্কা’র অর্জন করেন।