• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ১:০৬

ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন যেকোনো সময়


Share with friends

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি ছুটি আরেক দফা বাড়ছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ১ কিংবা ২ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলমান ছুটি শেষ হওয়ার কথা ২৫ এপ্রিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের ছুটির প্রজ্ঞাপনে সরকারি নির্দেশনায় বেশকিছু পরিবর্তন আসছে। রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে নতুন নির্দেশনা থাকছে। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। নতুন নির্দেশনা দিয়ে বুধবার যেকোনো সময় সরকারি ছুটির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের চূড়ান্ত স্টেজ পার করছি আমরা। এখনই অফিস খুলে দেওয়ার সময় আসেনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি বাড়বে। তবে এই মুহূর্তে এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘এবারের ছুটিতে নতুন নির্দেশনা আসবে। ইন্সট্রাকশনে অনেক ভিন্নতা থাকবে। প্রজ্ঞাপনে সবকিছুই বলে দেওয়া হবে।’

কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, বুধবারই জানতে পারবেন।’

এর আগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরো সাত দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয় কমিটির সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত সামারি আকারে (সারাংশ) প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

বর্ধিত সরকারি ছুটির বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন মঙ্গলবার রাতে রাইজিংবিডিকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। সরকারি ছুটির বিষয়টি দেখছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি চলছে। কিন্তু দিন দিন বেড়ে চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এ অবস্থায় ছুটি না থাকলে, ঘরবাড়ি থেকে মানুষজন বের হয়ে পড়লে কী অবস্থা হবে তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা কাজ করছে। বরং করোনা সংক্রমণ পুরোপুরি রোধ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে মানুষজনকে ধরে রাখা না গেলে করোনার সংক্রমণ ‍আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরেক দফা বাড়ছে সরকারি ছুটি।

এর আগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বর্তমানে করোনার যে পরিস্থিতি তাতে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে আমরা সুপারিশ করব।

তিনি বলেন, ‘মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা স্ট্রিক্টলি এনফোর্সমেন্ট চাই। করোনা প্রতিরোধে আমাদের প্রধান অস্ত্রই হলো- আইসোলেশন এবং দূরত্ব বজায় রাখা। এটা হচ্ছে, তবে আরেকটু স্ট্রিক্টলি হলে সেটা ভালো হবে। তা না হলে আমরা সংক্রমণ রোধ করতে পারব না।’

করোনা সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তারপর কয়েক ধাপে তা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।