• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:১২

জাতির উদ্দেশে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


Share with friends

জাতির উদ্দেশে ভাষণে- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধ’রা হলো।

প্রিয় দেশবাসী,
আসলামু আলাইকুম।

১৪২৭ বঙ্গাব্দের নববর্ষের শুভেচ্ছা। দেশে-বিদেশে – যে যেখানেই আছেন – সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্ম’রণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্ম’রণ করছি মুক্তিযু’দ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সকল বীর মুক্তিযো’দ্ধাকে।

আমি স্ম’রণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কাল্রাতে ঘা’ত’কদের হাতে নি’হ’ত আমা’র মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযো’দ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযো’দ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বঁধু – সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমা’র চাচা মুক্তিযো’দ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে।

বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী মা’র’ণ করোনাভাইরাসের ম’হামা’রীর কার’ণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভ’য়া’ল থাবা বসাতে শুরু করেছে।

ইতঃপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী’র উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আম’রা একইভাবে উদযাপন করবো।

প্রিয় দেশবাসী,

আম’রা ঘরে বসেই এবারের নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করবো। কবিগুরুর কালজয়ী গান ‘‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অ’গ্নিস্নানে শুচি হোক ধ’রা” গেয়ে আহ্বান করবো নতুন বছরকে। অ’তীতের সকল জ’ঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আম’রা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যত।

করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই:

মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভ’য়
আড়ালে তার সূর্য হাসে,
হারা শশীর হারা হাসি
অন্ধকারেই ফিরে আসে।

সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রবাসে বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করে থাকেন। রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে এদিনটি। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে উঠে।

এবার সবাইকে অনুরোধ করবো কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজ-সহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সং’ক্র’ম’ণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।

প্রিয় দেশবাসী,

চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃ’ত্যু ঝুঁ’কি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আ’ক্রা’ন্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে।

আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ ও অ’ভিনন্দন জানাচ্ছি। যে সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন ইতোমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস প্র’তিরো’ধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মক’র্তা, আ’ই’ন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশ’স্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমা’র ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আ’ক্রা’ন্ত হন, তাহলে পদম’র্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃ’ত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘা’টতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য আমি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়োজিত পু’লি’শ-সহ আ’ই’ন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশ’স্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মক’র্তা, মিডিয়া কর্মী, করোনাভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত রোগী আনা-নেওয়ার কাজে এবং মৃ’ত ব্যক্তির দা’ফ’ন ও সৎ’কারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীগণসহ জরুরি সেবা কাজে যাঁরা নিয়োজিত রয়েছেন, তাঁদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,

করোনাভাইসের কার’ণে গোটা বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক ম’ন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আভাস দিচ্ছে।

আপনারা জানেন, এই রোগ প্র’তিরো’ধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কোয়ারেন্টিন বা স’ঙ্গনিরোধ। অর্থাৎ নিজেকে ঘরব’ন্দি করে রাখা। বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরব’ন্দি। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কা’র্ফি’উ জারি করে মানুষকে ঘরব’ন্দি করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও গত ২৫-এ মা’র্চ থেকে ২৫-এ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-খাটো কারখানা বন্ধ।

গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমাদের আম’দানি-রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রা’ণঘা তী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাইবোনেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে।

আম’রা বিশ্ব ব্যবস্থার বাইরে নই। বিশ্বের অর্থনৈতিক ম’ন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুঃচিন্তার কার’ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আম’রা জানিনে, এই স’ঙ্ক’ট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কী’ভাবে ক্ষ’তিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকা’বিলায় আম’রা কাজ করে যাচ্ছি। আম’রা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপি’র ৩.৩ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের কার’ণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে আম’রা চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছি। যা অবিলম্বে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে, স্বল্প-মেয়াদে -আগামী অর্থবছরে এবং মধ্য-মেয়াদে – পরবর্তী তিন অর্থবছরে – এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। চারটি কার্যক্রম হচ্ছে:

(১) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা : সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘কর্মসৃজনকেই’ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

(২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন : অর্থনৈতিক কর্মকা’ণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য।

(৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি : দারিদ্র্যসীমা’র নীচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অ’প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা’ণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে।

(৪) মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা : অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।

বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসমূহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি করোনাভাইরাসজনিত কা’র’ণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সুরক্ষায় যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে:

(১) স্বল্প-আয়ের মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

(২) শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

(৩) দিনমজুর, রিকশা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যাঁরা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লক-ডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এখাতে ৭৬০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

(৪) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘বয়স্ক ভাতা’ ও ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজে’লায় শতভাগে উন্নীত করা হবে। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা।

(৫) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এ বাবদ সর্বমোট ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। কেউ গৃহহীন থাকবেন না।

শিল্পখাতে যে সব আর্থিক প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, অ’তি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, Export Development Fund -ইডিএফ-এর সুবিধা বাড়ানোর জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, Pre-shipment Credit Refinance Scheme- এর আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা।

প্রিয় দেশবাসী,

এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জো’রদার করতে হবে। সামনের দিনগু’লিতে যাতে কোনপ্রকার খাদ্য সঙ্কট না হয়, সেজন্য আমাদের একখনড জমিও ফেলে রাখা চলবে না।

এজন্য কৃষি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বীজ, সার, কী’’টনাশকসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণের ঘাটতি যাতে না হয় এবং সময়মত কৃষকের হাতে পৌঁছে – সে ব্যবস্থা আম’রা নিয়েছি।

কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য চলতি মওসুমে গত বছরের চেয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন অ’তিরিক্ত ধান ক্রয় করা হবে। এজন্য অ’তিরিক্ত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল হতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের কৃষি, মৎস্য, ডেইরি এবং পোল্ট্রি খাতে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ প্রদান করা হবে। কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের ম’হামা’রী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আম’রা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোন খাদ্য সঙ্কট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে।

আল্লাহর রহমতে গত মওসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মওসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। তবে, এসব ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা বিচ্ছিন্নভাবে না বিলিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আ’ইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে শৃঙ্খলার সঙ্গে বিতরণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাইরাস সং’ক্র’ম’ণের সম্ভাবনা থেকে যাবে। আমি বিত্তবানদের এই সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাবস্থায় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,

আপনারা ভ’য় পাবেন না। ভ’য় মানুষের প্র’তিরো’ধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে। কেউ আ’ত’ঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকা’বিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু কিছু স্বা’র্থান্বে’ষী মহল গু’জ’ব ছড়িয়ে মানুষকে বি’ভ্রা’ন্ত করার চেষ্টা করছে। এ স’ঙ্ক’ট’কালে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

আপনারা বি’ভ্রা’ন্ত হবেন না। মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই ম’হামা’রী মোকা’বিলা করতে আমাদের সহায়তা করুন। ‘

যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কে’টে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বং’সের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নে’শায়। বিদ্রো’হী কবির ভাষায় তাই বলতে চাই:

ঐ নূতনের কেতন ওরে কাল-বোশেখীর ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!

ধ্বংস দেখে ভ’য় কেন তোর? – প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন- জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!

প্রিয় দেশবাসী,

বাঙালি বীরের জাতি। অ’তীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মো’কাবিলা করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযু’দ্ধে আম’রা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আম’রা। আম’রা সস্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত ম’হামা’রীকে প্র’তিরো’ধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা, ম’হামা’রীর এই প্রলয় দ্রুত থেমে যাক। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সবাইকে আবারও নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ