• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:২৭

‘দান দেওয়া-নেওয়ার প্রশ্ন তুলে মানুষদেরকে ছোট করা হচ্ছে’


Share with friends

দান দেওয়া-নেওয়ার – নভেল করো’নাভাই’রাসের ভ’য়াল থাবায় থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। স্হবির হয়ে পড়েছে শোবিজ অঙ্গনসহ সবকিছু। এমন পরিস্থিতিতে অসহায়, দিনমজুরদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন সংগঠন, শিল্পী ও তারকারাও।

কেউবা অসহায়দের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে অন্যদেরকে উৎসাহিত করতে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের কিংবা ত্রাণের ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকেই সহায়তা করেছেন কিন্ত সেটা একান্তই গো’পনে।

অ’ভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে অসহায় শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একটি ফান্ড গঠন করেছেন। সেখানে অনেক স্বচ্ছল শিল্পীই নিজেদের সাম’র্থ্য অনুযায়ী অর্থদান করেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম জানিয়েছিলেন স্বচ্ছল শিল্পীদের অনেকেই সহায়তা দানে এগিয়ে আসেন নি, যাদের আম’রা প্রত্যাশা করেছিলাম। দেশের ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে তাদের এগিয়ে আসা উচিত ছিল।

এমন কথার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম সারির নাট্যতারকাদের নিয়ে বিভিন্নরকম সমালোচনা হয়। দেশের এমন পরিস্থিতিতে তারা কেন অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন নি, এ নিয়ে অনেক কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার দুপুরে যোগাযোগ করা হয় জনপ্রিয় নাট্য অ’ভিনেতা জিয়াঊল ফারুক অ’পূর্বের সাথে। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি কাউকে সহায়তা করেছি নাকি কারও পাশে দাঁড়াইনি! এটা অন্যেরা কিভাবে জানবে? যখনই কোন একটা ইস্যু চলে আসে সাথে সাথে মানুষ পক্ষে বিপক্ষে দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। সহায়তা করলে বলে শো-অফ করছে, না করলে বলে কিছুই করছে না। এগুলা তো উচিত না। আগে আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দান, অনুদান কিংবা সাহায্য এগুলো লোক দেখিয়ে করতে হয় না। তাহলে সেই দানের কোন মূল্য থাকে না। ধ’র্মে একটা কথা আছে, ‘ডান হাতে দান করলে বাম হাত যেন না জানে’। আমি সবসময় এটাই অনুসরণ করে আসছি।

আমা’র সাম’র্থ্য অনুযায়ী আমি কিছু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা লোক দেখিয়ে করিনি বলে আমাকে কেন এর জবাবদিহিতা করতে হবে? আমি কখনও কোন কিছু শো-অফ করার জন্য করি না। আবার যারা ছবি পেস্ট করে সাহায্য করছে তাদেরও যে নেগেটিভ উদ্দেশ্য আছে তাও বলছি না। তাদের উদ্দেশ্যও সৎ, তারা চেয়েছে তাদের দেখে অন্যরা যেন উৎসাহিত হয়। কিন্তু আমি দেখাইনি বলে কি আমা’র উদ্দেশ্য খা’রাপ?

দান, অনুদান নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলতে হয় না। এগুলা নিয়ে তফাৎ তৈরি করতে হয় না। এতে করে মানুষদেরকে ছোট করা হয়। যারা লোক দেখিয়ে দান করছে তারা অন্যদের উৎসাহিত করছে, তাদের জায়গায় তারা সঠিক। কিন্তু যারা শো-অফ না করে সহযোগিতা করছে তারাও তাদের জায়গায় সঠিক। সবাই তে লোক দেখানোটা পছন্দ করে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা পছন্দ করি না।

আমাদের সবার আগে উচিত নিজেদের কাছের মানুষজনের খোঁজ নেওয়া। নিজেদের কাছের মানুষ বলতে কিন্তু শুধু র’ক্তের স’ম্পর্কই না, আমা’র সহশিল্পী, টীম মেম্বার,কলাকুশলী সবাইকেই বুঝি আমি। এরা এই ইন্ডাস্ট্রিরই মানুষ। তারা ভালো আছেন কিনা, তাদের সাহায্যের দরকার আছে কিনা! সেই খোঁজ খবর নিয়ে সবাই যদি নিজেদের সাম’র্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে তাহলে কেউ অসহায় হয়ে রাস্তায় ঘুরবে না কিংবা না খেয়ে থাকবে না।

আমি সবার আগে তাদের খোঁজ নিয়েছি, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলী যাদের সাহায্যের দরকার তাদেরকে আমি সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। এর বাইরে কিছু অসহায় পরিবারকেও সহায়তা করার চেষ্টা করেছি আমা’র সাম’র্থ্য অনুযায়ী।

এছাড়া আমা’র ড্রাইভা’র, বাসার বুয়ার বেতন দিয়ে দিয়েছি আগেই যেন তারা কোন সমস্যায় না পড়ে। যেহেতু কেউ বাসা থেকে বের হতে পারবে না তাই তাদেরও অনেক সমস্যা হতে পারে। তাই এই সমস্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসায় না আসলেও আমি তাদেরকে ঠিকই বেতন পরিশোধ করবো। আমি আমা’র মত করে যতটুক সম্ভব চেষ্টা করছি কিন্তু আমি হয়তো সেগুলো লোক দেখিয়ে করছি না। এটা কখনওই আমি পারি নি, পারবোও না। কিন্তু তাই বলে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাই নি কখনও।

সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে অ’পূর্ব বলেন, আমি বেশকিছু নিউজ ও ফেসবুকে অনেকের লেখা দেখেছি। অনেকেই অনেক কিছু লিখেছেন। শিল্পী সংঘের ফান্ডে অনেকে এগিয়ে আসেন নি সেখানে অনেক শিল্পীকে জড়িয়ে অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন।

শিল্পী সংঘ অসহায় শিল্পীদের সহায়তায় ফান্ড গঠন করেছে, এটা সত্যি সাধুবাদ জানানোর মত কাজ। তাদের সেই উদ্যোগে পাশে থেকে শুরুতেই আমি অনুদান দিয়েছি সেই সংগঠনে। কিন্তু এর কিছুদিন পরে নিউজ দেখে অ’বাক হলাম খুবই।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও টাকা পাঠাতে পারছেন না। কারণ, এখন সবাই ঘরে বন্দী, এলাকা লকডাউন। কোনভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব না। তাছাড়া দোকানও বন্ধ। কারও টাকা পাঠাতে হয়তো একটু সমস্যা হচ্ছে বা দেরি হচ্ছে। এর জন্য এভাবে ঢালাওভাবে কাউকে অ্যাটাক করা উচিত হয় নি। এটা একটা হীনমন্যতা।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত দেশে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন ১৫৭২ জন এবং মৃ’ত্যু হয়েছে ৬০ জনের।