• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:১৭

না’গঞ্জে মা’রা যাওয়া রিকশাচালকের লা’শ দাফনে সিরাজগঞ্জে গ্রামবাসীর বাধা


Share with friends

নারায়ণগঞ্জে মা’রা যাওয়া রিকশাচালক আবদুর রহিমের (৫০) লা’শ দাফনে বাধা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহ’জাদপুর উপজে’লার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামের লোকজন।

শনিবার রাত ১২টার দিকে তার লা’শ বৃ-আঙ্গারু গ্রামের বাড়িতে এনে পরিবারের লোকজন গো’পনে দাফনের চেষ্টা করে। গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মা’রা যাওয়া স’ন্দেহে লা’শ গ্রামে ঢুকতে ও দাফনে বাধা দেয়।

নিরুপায় পরিবারের লোকজন বাধার মুখে লা’শ নিয়ে পোতাজিয়ায় অবস্থিত শাহ’জাদপুর উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে এ রাতেই উপজে’লা প্রশাসন ও পু’লিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে লা’শ ও লা’শের সঙ্গে থাকা সবাইকে তাদের হেফাজতে নেয়।

এরপর গাড়ির চালকসহ লা’শের সাথে থাকা ৫ জনকে নিয়ে বৃ-আঙ্গারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

নি’হত রিকশাচালক আবদুর রহিম ওই গ্রামের রওশন আলীর ছে’লে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ শহরে থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

এ বিষয়ে শাহ’জাদপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, নারায়ণগঞ্জে মা’রা যাওয়া আবদুর রহিমের লা’শ রোববার দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। এর আগে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একটি মেডিকেল টিম লা’শ ও লা’শের সঙ্গে থাকা ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এটি পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে শাহ’জাদপুর উপজে’লার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. আমিনুল ইস’লাম খান বলেন, লা’শ ও লা’শের সঙ্গে থাকা স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু লা’শটি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে তাই সব ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বজনরা ওই ব্যক্তির যে ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট লেখা আছে, নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে আনার আগেই ‘ব্রডডেথ’ বা বাড়িতে মা’রা মা’রা গেছে।

ডা. আমিনুল ইস’লাম খান বলেন, শনিবার দুপুরে আবদুর রহিমকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেয়ার আগেই মা’রা যায়। নারায়ণগঞ্জ পু’লিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে কী’ভাবে তারা লা’শ নিয়ে গ্রামে এলো তা ভেবে আমি খুব হতবাক হয়েছি।

তিনি আরও জানান,শাহ’জাদপুর উপজে’লা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ৬ সদস্যের একটি সেচ্ছাসেবী দল সব নিয়ম মেনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুভাবে লা’শের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম থা’নার ওসি সৈয়দ শহিদ আলম বলেন, আমাদের কাছে শুধু মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস আছে। লা’শের গাড়ি চেক করার মতো প্রয়োজনীয় পিপিই বা নিরাপত্তা পোশাক নেই। ফলে অন্য গাড়ি কঠোরভাবে চেক করা হলেও রোগী বা লা’শ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সেভাবে চেক করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে শাহ’জাদপুর থা’নার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লা’শটি গ্রামে আনার বিষয়ে পু’লিশকে জানানো হয়নি। এলাকাবাসীর দেয়া খবরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ দিকে নি’হত রহিমের স্বজনদের দাবি, করোনা নয় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন।