• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ২:৫১

নিজে করোনায় আক্রান্ত, তবুও পরিবারের জন্য কাদঁছে মেয়েটি


Share with friends

পাঁচ মাসে আগে ঢাকার একটি কলেজ থেকে এমবিএ শেষ করে চাকরিতে ঢোকার চেষ্টা করেছেন আফরিন (ছদ্মনাম)। কিন্তু মেধাবী হয়েও চাকরি পাননি তিনি। তার সারাটা জীবন ল’ড়াইয়ের। ছয় সদস্যের পরিবার চলে তার টিউশনির টাকায়। এর মধ্যে করো’না আতঙ্কে সবার মতো তিনিও চলে যান লকডাউনে। টিউশনি বন্ধ; তাই অভাবের সংসারে সঙ্কট আরও বেড়ে যায়।

আফরিন নিয়মিত র’ক্তদাতা। গত ৩ এপ্রিল একজন মুমূর্ষু রোগীকে র’ক্ত দিতে চলে যান ডেল্টা হাসপাতা’লে। কয়েকদিন পর নিজের মধ্যে করো’নার উপসর্গ বুঝতে পেরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাসপাতা’লে পরীক্ষা করান। রিপোর্টে করো’না পজিটিভ আসে তার।

ওই দিন হাসপাতা’লে যাওয়ার রিকশা ভাড়া ছিল না তার। পাশের বাসার একজনের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা ধার নিয়েছিলেন। করো’না পজিটিভ আসায় গত শুক্রবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতা’লে ভর্তি হন তিনি।

কিন্তু করো’নার সঙ্গে ল’ড়াই করা অবস্থায় পরিবারের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছেন আফরিন। পরিচিত জনদের মোবাইল করে হাসপাতা’লের বিছানা থেকে পরিবারের জন্য সাহায্য চেয়ে কাঁদছেন।

জানা গেছে, আফরিন পুরান ঢাকার নারিন্দার বাসিন্দা। তার বাবা মা’রা গেছেন আট বছর আগে। বড় ভাই কিছু দিন প্রবাসে ছিলেন। বিদেশে ঋণগ্রস্ত হয়ে ২০১৮ সালে দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর পরিবার চলে আফরিনের টিউশনির টাকায়। পরিবারে মা, ছোট বোন, ভাই-ভাবি এবং ভাতিজি রয়েছে তার। মুন্সিগঞ্জের লৌজজং উপজে’লায় একসময় প্রচুর সম্পত্তি ছিল তাদের। কিন্তু নদীভাঙনে সব শেষ।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাঈন উদ্দিন আরিফ বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি নিজে তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মেধাবী এবং টিউশনি করে সংসার চালান। এ অবস্থায় পরিবারের জন্য তিনি খুবই চিন্তিত। আম’রা যতটা পারছি তাকে সহায়তা করছি। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন; সেই প্রত্যাশা করছি। তার একটা ভালো চাকরি দরকার। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। কিন্তু মানসিকভাবে খুবই শক্ত। বার বার পরিবারকে সহায়তার কথা বলেছেন আফরিন।

আফরিনের বড় ভাই বলেন, সে স্বেচ্ছায় মানুষকে র’ক্ত দিতে ভালোবাসে। ৩ এপ্রিল ডেল্টা হাসপাতা’লে র’ক্ত দিতে গিয়েছিল আফরিন। এর আগে-পরে ঘরেই ছিল। কাউকে দোষ দিচ্ছি না। তবে ধারণা করছি এখানে থেকেই করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছে আফরিন।

তিনি বলেন, আমি অনেকদিন সৌদিতে ছিলাম। সেখানে ব্যবসা দিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ি। পরে দেশে আসি। ৭-৮ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত আমি। দেশে এসে কাপড়ের হকারি করে যে টাকা পাই তাতে কিছুই হয় না। আফরিন টিউশনি করে সংসার চালায়। আত্মীয়-স্বজন বড় লোক হলেও কাছে ঘেঁষতে পারি না। বোন মেধাবী তবুও একটা চাকরি হয়নি।

আফরিনের বড় ভাই আরও বলেন, আমা’র বোন আমাদের সংসারের সব। সবকিছু বন্ধ হওয়ায় ঘরে খাবার নেই। আমা’র বোন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক এটাই চাই। প্রথমে মহানগর হাসপাতা’লে ছিল। এরপর অবস্থা অবনতি হলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতা’লে নেয়া হয়। ফোনে কথা বলছিলাম, সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না।

আফরিনের মা বলেন, আমি সারাজীবন না খেয়ে থাকব। তবুও আল্লাহ যেন আমা’র মে’য়েকে সুস্থ করে দেন। আমা’র মে’য়ে আমা’র সব। আমা’র মে’য়ের কারণে আম’রা বেঁচে আছি। অভাবের সংসারে মে’য়ে টাকা দিলে খাই, না দিলে না খেয়ে দিন কা’টাই। এমন কঠিন সময়ে আমা’র মে’য়েটা অ’সুস্থ হলো। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে সবাই দোয়া করবেন।