• ঢাকা
  • রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:৩৬

প্রেমিকার কথায় বৃদ্ধাকে হত্যা করেছিল প্রেমিক


Share with friends

প্রকাশিত: ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ১৮ এপ্রিল ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইমন (১৭) ও আসমা আক্তার আয়েশা (১৭) নামে দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুইজনই উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা। এক পর্যায়ে তারা চেয়েছিল পালিয়ে বিয়ে করতে। তবে তাদের কাছে টাকা পয়সা ছিল না। পাশ্ববর্তী মাহফুজা খাতুন (৫৫) স্বর্ণালঙ্কার পড়া অবস্থায় প্রতিদিন বিকেলেই হাটতে বের হতেন। টাকার জন্য মাহফুজাকে হত্যা করে আসমা তার প্রেমিক ইমনকে স্বর্ণালংকার লুট করতে বলেছিল। যে কথা সেই কাজ! পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বৃদ্ধা মাহফুজাকে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে যায় ইমন। আর লাশ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেয় একটি বাগানে। পরেরদিন পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহজনক ইমনসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ। আটকৃত আসমির জবানবন্দীতে ঘটনাসহ হত্যার কথা স্বীকার করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. জহিরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় পরে আসমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই নোয়াখালী সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের বৃদ্ধা মাহফুজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে সন্দেহভাজন ইমন ও আজিজ নামে দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। পরে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নিহত বৃদ্ধার ছেলে আবদুল ওয়াদুদ শিপন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনাটির অগ্রগতি না দেখে আমি মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত দেওয়ার জন্য পুলিশ হেডকোয়াটারে আবেদন করি। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই নোয়াখালী মামলাটি তদন্ত করে আমার মায়ের হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। আমি দায়ীত্বরত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।

পিবিআই নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা বলেন, আমরা মামলাটির রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

কেএ/ডিএ