• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

দুপুর ২:২০

বছরে এক বার ফোটে এই রাতের রানি


Share with friends

ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে কমই আছেন। লাল, সাদা, বেগুনি, হলুদ, গো’লাপি নানা রঙের নানা প্রজাতির ফুল আমাদের মনকে মোহিত করে। বছরে মাত্র একবার ফোটে এমন ফুলের কথা কি জানেন?
প্রিন্সেস অব দ্য নাইট বা রাতের রানি হিসেবে পরিচিত এই ফুলের নাম সেরিয়াস। এটি এক ধরনের ক্যাকটাস। সাধারণত জুলাই ও অক্টোবর মাসে শুধু রাতেই ফোটে এ ফুল। ভোর হতেই আবার মুড়ে যায়। সাদা পাপড়ির দুস্প্রাপ্য এই ফুলের সৌন্দর্য আর ঘ্রাণ যে কারো মন ভুলাবেই।

সম্প্রতি দ্য কুইন অব দ্য নাইট সোসাইটি নামে একটি ফেসবুক পেজে একজন তার বাড়ির বারান্দায় ফোটা রাতের রানি সেরিয়াস ফুলের ছবি শেয়ার করেন। সবার সঙ্গে উপভোগ করেন এর সৌন্দর্য। নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেন তিনি। নিউ ইয়র্ক বোটানিকেল গার্ডেনের নোলেন গ্রিনহাউসগু’লির মা’র্ক হাচাদুরিয়ান বলেন, কা’টাযু’ক্ত এই ক্যাকটাস তার পছন্দ না হলেও এর ফুল তাকে মুগ্ধ করেছে।

সেরিয়াস ফুল সূর্যাস্তের পর থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ফোটে। সমস্ত পাপড়ি ফোটার জন্য সময় লাগে কমপক্ষে এক থেকে তিন ঘণ্টা। কিছু গবেষক এ গাছ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন। তারা এ গাছে ফুল ফোটানোর জন্য গাছকে অন্ধকারে রেখে দিয়েছিলেন। এছাড়াও নানা কৌশল অবলম্বন করে তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নির্দিষ্ট আবহাওয়া এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি যেমন বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা অনুসারে ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়।

এই প্রজাতির ফুলগুলো গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ফোটে। আবার মনে করা হয়, এই ফুল ফোটার সঙ্গে চাঁদের স’ম্পর্ক রয়েছে। কারণ পূর্ণিমা’র সময় এর কুঁড়ি বের হয়। রাতের রানিকে দক্ষিণ-পশ্চিম আ’মেরিকা, যু’ক্তরাষ্ট্র, মধ্য এবং দক্ষিণ আ’মেরিকা এবং অ্যান্টিলিসের উপজাতীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। এছাড়াও ব্রাজিল, উত্তর আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, কলোম্বিয়া, গিয়ানা, সুরিনাম এবং ভেনিজুয়েলার ম’রু অঞ্চলগুলোতেও এ ধরনের ক্যাকটাস দেখা যায়।

দক্ষিণ আ’মেরিকাসহ সারা বিশ্বে মোট ৩৩ প্রজাতির সেরিয়াস ক্যাকটাস রয়েছে। তবে উদ্ভিদবিদদের দাবি প্রায় ৫০ প্রজাতির সেরিয়াস ক্যাকটাস বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। এই ক্যাকটাসটি দেখতে অনেকটা মোমবাতির মতো। ১৬২৫ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে সেরিয়াসকে মোমবাতি ক্যাকটাস নামে উল্লেখ করে। সেরিয়াস গুল্মযু’ক্ত ক্যাকটাস। এর একেকটি গাছ ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। একেকটি কা’ণ্ড তিন থেকে ১৪ সে.মি পর্যন্ত চওড়া হয়।

কা’টাযু’ক্ত এই ক্যাকটাস কম পানি ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। এটি প্রায় ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপ সহ্য করতে পারে। সেরিয়াস ফুলগুলো নয় থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কুঁড়ি থাকা অবস্থায় এটিকে দেখতে নবজাতক শি’শুর মা’থার মতো লাগে। সাধারণত এ ফুল সাদা রংয়ের হয়ে থাকে। তবে গো’লাপি, বেগুনি, ক্রিম, হলুদ, সবুজ বর্ণের ফুলও দেখা যায় অনেক জায়গায়।

এর ফলগুলো ডিম্বাকৃতির হয়ে থাকে। ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, মাংসল এবং হালকা কা’টাযু’ক্ত হয় ফলগুলো। এর ফলের রং সাধারণত লাল হয়। তবে অনেক সময় হলুদ, সাদা এবং গো’লাপি রংয়ের ও দেখা গেছে। বীজগুলো বড়, বাঁকা ডিম্বাকৃতি, চকচকে কালো রংয়ের হয়। এর পরাগায়ন হয় হক বা মথ নামের এক প্রজাতির পোকার মাধ্যমে। এছাড়াও নিশাচর পোকামাকড় এমনকি বাদুড়ের মাধ্যমেও এর পরাগায়ন হয়ে থাকে।
একটি সেরিয়াস ফুল গাছের বয়স প্রায় পাঁচ বছর হলে তবেই ফুল ফোটে।

এই ক্যাকটাস গাছ আকারে বড় হওয়ায় অনেক জায়গায় এটিকে সীমানার বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এর ফল এবং কা’ণ্ড অনেক দেশের মানুষেরাই খাবার হিসেবে খেয়ে থাকে। এর কাঠ আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের কা’টাযু’ক্ত কা’ণ্ডের ভেতরের জে’ল সাবানের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: বিয়ন্ডসায়েন্স