• ঢাকা
  • রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:৪৭

বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ডা. মঈন


Share with friends

সুনামগঞ্জের ছাতকে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত করো’নাযু’দ্ধে প্রথম মা’রা যাওয়া চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিমালা অনুসরণ করে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও গো’লাম কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপশ শীল, ওসি মোস্তফা কামাল, খছরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহম’দ, ইবনে সিনা কাম’রুল ইস’লাম প্রমুখ।

কঠোর নিরাপত্তার সাথে কবরস্থানের পাশেই তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। করো’নাযু’দ্ধে প্রথম মৃ’ত্যুবরণকারী চিকিৎসকের জানাজার নামাজে ই’মামতি করেছেন পোষ্টার মাস্টার ইস’রাইল আহম’দ। জানাজায়; একটু দূর থেকে ২০/২৫ জন স্বজন উপস্থিত হন।

এছাড়া ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্তে পিপিই পরিয়ে তার ছয় স্বজনকে দাফন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে রাত সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তার ম’রদেহ গ্রামে নেওয়া হয়।

করো’নায় মৃ’ত চিকিৎসকের ভগ্নীপতি জানান, প্রথমে ঢাকায় দাফন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে পরিবারের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অবশেষে তার গ্রামের বাড়িতে লা’শ দাফন করা হয়।

তিনি আরো জানান, ঢাকার লা’শ দাফনকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইস’লামের পক্ষ থেকে ডাক্তার মঈন উদ্দিনকে গোসল দেয়া এবং ম’রদেহে কাফন পরানো হয়েছে।

সিলেটে করো’না আ’ক্রান্ত প্রথম রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মঈন উদ্দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান। এর আগে গত ৫ এপ্রিল তার করো’না পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

তবে ৭ এপ্রিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহম’দ হাসপাতা’লেv করো’না আইসোলেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরদিন ৮ এপ্রিল অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে ঢাকায় স্থা’নান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে সোমবার (১৩ এপ্রিল) হাসপাতা’লে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা। লাইফ সাপোর্টে থাকাকালীন বুধবার ভোড়ে মা’রা যান।

ডাক্তার মঈন উদ্দিন সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লের চিকিৎসক ছিলেন। সিলেটে করো’নাভাই’রাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ টিমের সদস্য ডা. মো. মঈন উদ্দিন ছিলেন একজন মেধাবী চিকিৎসক। তিনি মেডিসিনের পাশাপাশি কার্ডিলজিরও চিকিৎসক ছিলেন।

ছাতক উপজে’লার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদাম পুর গ্রামে মৃ’ত মুন্সি সিদ্দিক আলীর পুত্র ডাক্তার মইন উদ্দিন । ১৯৭৩ সালে ১ মা’র্চ তার জন্ম। প্রথম তার গ্রামে পাঠশালা থেকে লেখাপড়া শুরু করেন। পরে নতুনবাজার (ধারন) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর সিলেটের সেরাবিদ্যাপিট এমসি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস (ডিএমসি) বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপিপিএস (মেডিসিন) এমডি ( কার্ডিওলজি) পাশ করেছেন। প্রথম ডাক্তার হিসেবে তার নিজ উপজে’লার সদর হাসপাতা’লে মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগদান করেছেন ২০০১ সালে। এরপর প্রথম চেম্বার শুরু করেন গোবিন্দগঞ্জ জননী ফার্মেন্সিতে। এখানে শ’শ’রোগীদের দেখতেন বিনা টাকায়। কখনো এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে ভিজিট নিতে না।

দুই সন্তানের জনক ডা. মঈনের স্ত্রী’ ডা. রিফাত জাহান সিলেটের পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান।