• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৪:২৭

রাজধানীতে রক্তের সংকট, দিশেহারা রোগীর স্বজনরা


Share with friends

রাজধানীতে বেড়েছে র’ক্তের সংকট। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা। করো’নাভাই’রাসের কারণে
মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

মো. আকরাম ফকির (৫০)। পেশায় একজন কসমেটিকস ফেরিওয়ালা। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি গাজীপুরের বুরুলিয়া থেকে বাজার করার জন্য সাইকেল নিয়ে বের হন। গাজীপুর সদরে মোশারফ টাওয়ারের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হতে গেলে দ্রুতগামী চালবোঝাই ট্রাক পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এরপর স্থানীয়রা তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতা’লে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে হাসপাতা’লে ছুটে যান স্ত্রী’ সাহিদা বেগম ও মে’য়ে আয়েশা আক্তার নীলা। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন বাবার ডান পায়ে হাটুর নিচ থেকে ভেঙে কয়েক টুকরা হয়ে গেছে। প্রচুর র’ক্ত বের হয়েছে। সদর হাসপাতা’লের চিকিৎসকরা তার র’ক্ত বন্ধ করতে পারেননি। পরে সদর হাসপাতাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতা’লে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) তাকে রেফার্ড করা হয়।

অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে আনার সময়ও সিট র’ক্তে একাকার হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতা’লে আনার পরও তারা রোগীর ট্রিটমেন্ট করেননি।

মে’য়ে আয়েশা আক্তার নীলা বলছিলেন, তাদের (পঙ্গু পাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) বারবার বলেছি, আমা’র বাবার শরীরে র’ক্ত নেই। র’ক্ত দেন। না হলে মা’রা যাবে। কিন্তু তারা আমাদের কাছেও যেতে দেয় না, আমাদের কোনো কথাও শোনে না। গালাগালি করে। দেখলাম এখানে রাখলে রোগীকে বাঁ’চানো যাবে না।

‌সেখান থেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য আকরাম ফকিরকে মোহাম্ম’দপুরে কলেজগেটের পাশে প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতা’লে নিয়ে আসেন স্ত্রী’ ও মে’য়ে।

‘কিন্তু আনলে কী’ হবে। ডাক্তার বললো, আগে রোগীকে বাঁ’চাতে হলে দ্রুত তিন ব্যাগ র’ক্তের ব্যবস্থা করেন। আম’রা তো এখানের কিছুই চিনি না। আশপাশে বেশ কয়েকটি ব্লাড ব্যাংকের খোঁজ দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোথাও বি (+) পজেটিভ র’ক্ত নেই। সাথে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। করো’নাভাই’রাসের কারণে কেউ আসতেও পারে না। কোথায় র’ক্ত পাব। টেনশনে মা’থা কাজ করছে না’,- কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে বলেন নীলা।

এমন সময় প্রাইম হাসপাতা’লের এক স্টাফ নাজিবুল ইস’লাম (লালু) আসেন। তিনি ওই মে’য়ের কা’ন্না দেখে জানতে চান, কী’ হয়েছে? মে’য়ে জানান, বাবার বি-পজেটিভ র’ক্ত লাগবে। কিন্তু পাচ্ছি না। পরে তিনি তার বাবাকে এক ব্যাগ র’ক্ত দেন।

এরপর মে’য়ে নীলার র’ক্তের গ্রুপ টেস্ট করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। র’ক্তের গ্রুপ মিলে যায়, ম্যাচও করে। দেয়া হয় এক ব্যাগ। এখন আরও এক ব্যাগ র’ক্ত লাগবে।

নীরব (১৯) ট্রাকের হেলপার। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মির্জা’পুরে দুই ট্রাকের মুখোমুখী সং’ঘর্ষ হয়। এতে নীরবের বাম পা মা’রাত্মকভাবে ইন’জুরি হয়। শরীর থেকে প্রচুর র’ক্ত বের হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতা’লে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তার বাম পা কে’টে ফেলতে হয়। তার শরীরে এখন পর্যন্ত এ(+) পজেটিভ ১৩ ব্যাগ র’ক্ত দেয়া হয়েছে।

নীরব বলছিলেন, করো’নাভাই’রাসের কারণে র’ক্তের দাম অনেক। কিন্তু ভালো র’ক্ত পাওয়া যায় না। শরীরে আরও র’ক্তের দরকার। কত ক’ষ্ট করে ব্লাড ম্যানেজ হয়েছে। এখন কোথাও র’ক্ত পাচ্ছি না। রাজধানী ব্লাড ব্যাংক, কোয়ান্টাম সেন্টার, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংক ও মালিহা ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও র’ক্তের ব্যবস্থা করতে পারছি না। ছোটাছুটি করছি, কিন্তু র’ক্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানী ও আলিফ ব্লাড ব্যাংকের মালিক খন্দকার আব্দুল হালিম জাগো নিউজকে বলেন, করো’নাভাই’রাসের কারণে ঘর থেকে মানুষ বের হতে পারছে না। ব্লাড ম্যানেজ করা এখন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের কাছে মানুষ অসহায় হয়ে আসে। কিন্তু আম’রা ব্লাড দিতে পারছি না। যখন মুমূর্ষ রোগীর জন্য ব্লাড দিতে পারি না তখন নিজেদের খুব অসহায় মনে হয়।