• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

বিকাল ৪:০০

শাবানা কেবল অ’ভিনয়ই ছাড়েননি, রীতিমত ‘তওবা’ও করেছিলেন জীবনে আর না করার


Share with friends

সকল চলচ্চিত্র কলাকুশলী, ভক্তদের মনে চাপা কৌতূহল শাবানা চলচ্চিত্র জগৎ ছেড়েদিলেন কেন? ফ্লপ ছবি হচ্ছিল? দর্শক নিচ্ছিল না তাকে? জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছিল? কৌতূহল আর জিজ্ঞাসার কোন উত্তরই পায়নি কেউ।

নাম, যশ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি এক জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন তিনি ও তার পরিবার, তার সবটুকুই অ’ভিনয় আর চলচ্চিত্রের কারণে। তবে হঠাৎ কেন তিনি নিজেকে এমন আড়াল কর ফেললেন চলচ্চিত্র থেকে।

তার পারিবারিকভাবে ঘ’নি’ষ্ঠ সুত্র থেকে জানা যায়, তিনি কেবল অ’ভিনয়ই ছাড়েননি, রীতিমত ‘তওবা’ করেছেন। শাবানা ১৯৯৭ সালে অ’ভিনয় ছেড়েছেন। শোনা যায়, সেই সময় হঠাৎ তার আমেরিকা প্রবাসী মে’য়েকে কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তখন তিনি মনে মনে মানত করেন, মে’য়েকে যদি ফিরে পান, তাহলে জীবনে আর কখনও অ’ভিনয় করবেন না, এই জগৎ ছেড়ে দিয়ে ধ’র্ম চর্চায় মন দিবেন। মে’য়েকে ফিরে পেয়ে তিনি অ’ভিনয়, চলচ্চিত্র এবং দেশ-তিনই ছাড়েন। স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন আমেরিকায়।

যে সন্তানদের জন্য শাবানা অ’ভিনয়জীবন ছাড়লেন তারা এখন পরিণত বয়সের অধিকারী। পাট চুকিয়েছেন পড়াশোনার। বড় মে’য়ে সুমী ইকবাল এমবিএ করেছেন। বিয়ে করে এখন সে পুরোদস্তুর গৃহিণী। ছোট মে’য়ে ঊর্মি সাদিক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। ছে’লে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে চাকরি করছেন।

২০ বছর অ’ভিনয় থেকে দূরে আছেন শাবানা। কিন্তু তাতে কি। আজও রাস্তায় বের হলে দেখে ফেললেই সামনে আসেন। কেউবা ছুঁয়ে দেখেন। কেউ আবেগে জড়িয়ে ধরেন। এখন আবার কেউ কেউ নাকি সেলফি তোলার আবদারও করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে শাবানা বলেন, ‘আমি পোশাকের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিলাম। একবার “বধূ বিদায়” ছবিতে পরিচালক প্রথমে আমাকে গল্পটা শোনালেন। এরপর গ্রামের মে’য়ের চরিত্রে অ’ভিনয় করার জন্য বললেন। পরিচালক জানান, এটা এমন একটি চরিত্র গ্রামের মে’য়ে খালি গাঁয়ে শুধু একটা শাড়ি পরে অ’ভিনয় করতে হবে। তখন আমি তাকে না করে দিয়েছিলাম। তখন পরিচালক আমায় শহরের মে’য়ের চরিত্র দিয়েছিলেন।’

অ’ভিনয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবতাম। কোথাও শুটিংয়ে গেলে ভালো’ভাবে পর্যবেক্ষণ করতাম। পরিচালক ও নায়ক নিয়ে অ’তটা ভাবতাম না। আমি চাইতাম ছবিতে আমা’র চরিত্রটা যেন ভালো হোক।’

উল্লেখ্য, শাবানার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্মা। তিন যুগের অ’ভিনয় ক্যারিয়ারে শাবানা অ’ভিনয় করেছেন প্রায় ২৯৯টি ছবিতে। নাদিম, রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানার সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি।

শাবানা অ’ভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর তালিকায় আছে- ‘চকোরী’, ‘ভাত দে’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘অবুঝ মন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশ’মন’, ‘সত্যের মৃ’ত্যু নেই’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরো’ধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লু’টেরা’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন আ’সা’মি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আ’ক্রো’শ’ ও ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ ইত্যাদি। আর অ’ভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শাবানা পেয়েছেন ১০বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৯৭ সালে অজানা কারণে চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন গুণী এই অ’ভিনেত্রী।