• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

দুপুর ২:৫১

শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন


Share with friends

মু’সল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধ’র্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা জরুরি এক বি’জ্ঞপ্তিতে জানানো হছে, শুধু ম’সজিদের ই’মাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম’রা ম’সজিদে নামাজ আদায় করবেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সাক্ষরিত এক জরুরি বি’জ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ধ’র্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভ’য়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ম’সজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ই’মাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম’রা ছাড়া অন্য সব মু’সল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। জুমা’র জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, ম’সজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ই’মাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম’রা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমা’র জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মু’সল্লি ম’সজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হিসাবে, সব মিলিয়ে দেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা জে’লায় ৬৪ জন। সরকারের হিসাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন ১২ জন।

জরুরি বি’জ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে সারা দেশে কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগের তালিম, মিলাদ আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও বিপদমুক্তির প্রার্থনা করবেন।

সব ধ’র্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধ’র্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হলো। কোনও প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে ।

জানা গেছে, ২৪ মা’র্চ ইস’লামিক ফাউন্ডেশন দেশের খ্যাতনামা আলেম’দের  সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে পরাম’র্শ প্রদানের লক্ষ্যে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আলেম’রা ম’সজিদগুলোয় জুমা ও জামাতে মু’সল্লিদের সীমিত রাখার পরাম’র্শ দেন। সে পরাম’র্শের কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি দেশের ম’সজিদগুলোতে। এরপর ২৯ মা’র্চ আলেম’দের নিয়ে ফের বৈঠক করে ইফা।ইফা জানায়, ম’সজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমা’র নামাজ অব্যাহত থাকবে। যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা সবাই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। অজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় ম’সজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। তবে পরিস্থিতি খা’রাপ হওয়ায় নতুন করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করোনাভাইরাস মানুষের হাঁচি, কাশি ও সংস্প’র্শের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সংক্রমিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই তার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, যার লক্ষণ দৃশ্যমান হয় না। পূর্ব থেকে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এর বিস্তার রোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ম’সজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধ’র্মীয় প্রতিষ্ঠানে জসসমাগমের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটেছে।পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রা’ণহানির ঘটনার উদাহ’রণ বিদ্যমান। ইতোমধ্যে মু’সলিম স্কলারদের অ’ভিমতের ভিত্তিতে ম’ক্কা, ম’দিনাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ম’সজিদে মু’সল্লিদের আগমন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে ম’সজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ ধ’র্মীয়  প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার জো’র পরাম’র্শ দিয়েছেন।