• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

রাত ৩:১৩

২৫ কেজি ইলিশের জন্য রেলের ২৫ কর্মক’র্তা গেলো ট্রেন নিয়ে চাঁদপুর!


Share with friends

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মক’র্তার বাসার জন্য বৈশাখী ইলিশ আনতে ২৫ জন কর্মক’র্তা কর্মচারীসহ চট্টগ্রাম থেকে রেলগাড়ি গেল চাঁদপুর। এই নিয়ে রেল অঙ্গনে চলছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে।

রেলের বাণিজ্যিক ও পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রেলমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন স্টেশনে জরুরী ভিত্তিতে বেতন ও রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা কর্মচারীদের পেনশন ভাতা পরিশোধের জন্য চট্টগ্রাম থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন ছাড়ে সকাল ৯ টায়।

ট্রেনে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মক’র্তা-কর্মচারী জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মক’র্তাসহ জিআরপি, আরএনবিসহ মোট ২৫ জন রেল কর্মক’র্তা কর্মচারী ঐ ট্রেনে ছিলেন। ট্রেনটি প্রথমে ফেনী স্টেশন মাস্টারকে টাকা দিয়ে তারপর লাঙ্গলকোট হয়ে লাকসাম দিয়ে লাকসামের মাস্টারকে টাকা প্রদান করেন। এই সময় লাকসামের স্টেশন মাস্টার ট্রেন আবার উল্টো পথে চাঁদপুর না যাওয়ার জন্য চাঁদপুরের স্টেশন মাস্টারের টাকা’টাও দিয়ে যেতে দেন। তিনি পরদিন চাঁদপুরের স্টেশন মাস্টারের কাছে টাকা পৌঁছে দেবেন। এসময় চাঁদপুরের স্টেশন মাস্টারের সাথে ফোনে বিষয়টি সমন্বয় করে নেন।

সোজা বাংলায় এই সময় ট্রেনে থাকা সহকারী বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা আনসার আলীর সাথে যোগাযোগ করে মাত্র ৬০ হাজার টাকা নিয়ে চাঁদপুরে না গিয়ে চাঁদপুরের টাকা’টা লাকসামের স্টেশন মাস্টারকে বুঝিয়ে দেন। এরপর ট্রেনটি লাকসাম থেকে কুমিল্লা হয়ে চৌমুহনী-নোয়াখালীর মাস্টারকে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামের পথে ফেরত আসতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৭ টায় ট্রেনটি লাকসাম আসলে ডিআরএম সাদেকুর রহমান আবার ট্রেনটি চাঁদপুর যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এসময় ট্রেনে থাকা সহকারী বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা বিষয়টি চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা আনসার আলীকে জানালে তিনি ডিআরএম’ এর (বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার) সাথে এই ব্যাপারে কথা বলেন। চাঁদপুরের টাকা’টা লাকসামের স্টেশন মাস্টার বুঝে নিয়েছেন। তিনি পরদিন পৌঁছে দিবেন। তখন বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার বলেন, এত কিছু বুঝিনা ট্রেন চাঁদপুর যেতেই হবে। আবার উল্টো ঘুরে লাকসাম স্টেশন মাস্টার থেকে চাঁদপুরের ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ট্রেন চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চাঁদপুর স্টেশনে গিয়ে মাস্টারকে টাকা বুঝিয়ে দেয়ার পর ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকে।

এই সময় চাঁদপুর স্টেশনের টিটিই মহিউদ্দীন এসে বলেন, গাড়ি এখন যাবে না। গাড়িতে করে ডিআরএম স্যারের ইলিশ মাছ যাবে। গাড়ি একটু অ’পেক্ষা করবে। ইলিশ মাছ তোলার জন্য চাঁদপুর স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট গাড়ি অ’পেক্ষায় থাকে। পরে ট্রেনের বগিতে থাকা কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের আর বুঝতে বাকি থাকেনা যে ট্রেনটি কেন চাঁদপুর যেতে বারবার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছিল। আর গাড়ি চাঁদপুর যাওয়ার জন্য ডিআরএমকে বারবার ফোন করছিলেন চাঁদপুরের টিটিই মহিউদ্দিন।

জানা গেছে, পহেলা বৈশাখে স্যারকে ইলিশ উপহার দেয়ার জন্য চাঁদপুর স্টেশনের টিটিই মো. মহিউদ্দিন বারবার ফোন দিচ্ছিলেন। এরপর টিটিই মহিউদ্দিন ২৫ কেজির মত ইলিশ মাছ ইঞ্জিন রুমে তুলে দিলে ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়া হয়। পুনরায় লাকসাম হয়ে ট্রেনটি রাত ১২ টায় চট্টগ্রাম এসে পৌঁছে। শুধুমাত্র ইলিশ আনার জন্য এতো জন কর্মক’র্তা-কর্মচারীকে হয়’রানি করা, ট্রেনের তেল অ’পচয় করা, সময় নষ্ট করায় ট্রেনে থাকা কর্মক’র্তা-কর্মচারীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা আনসার আলী জানান, আমি বিষয়টি ভাসা ভাসা শুনেছি। ঐদিন বিভিন্ন স্টেশনে রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা কর্মচারীদের পেনশনের টাকা দেয়ার জন্য একটি ইঞ্জিনের সাথে একটি বগি নিয়ে রেলের কর্মক’র্তা-কর্মচারী, জিআরপি ও আরএনবি সদস্যরা গিয়েছিলেন। তারা বিভিন্ন স্টেশনে টাকা দেয়ার পর চাঁদপুরে মাত্র ৬০ হাজার টাকা ছিল।

তারা আমা’র সাথে কথা বলে চাঁদপুরের টাকা’টা লাকসামের স্টেশন মাস্টারকে দিয়েছিলেন। ট্রেনটি চাঁদপুর যাচ্ছে না শুনে ডিআরএম স্যার আমাকে ফোন করে গাড়ি চাঁদপুর যাচ্ছে না কেন জিজ্ঞেস করলেন। আমি ডিআরএম স্যারকে বিষয়টি বললাম। চাঁদপুরে মাত্র অল্প টাকা। টাকা’টা লাকসাম রেলস্টেশন মাস্টার দেয়া হয়েছে। তিনি পরদিন চাঁদপুরের স্টেশন মাস্টারের কাছে পৌঁছে দেবেন। ডিআরএম স্যার আমাকে বললেন তুমি এখনি ট্রেন চালাতে বলো। ট্রেন চাঁদপুর যেতে হবে। তারপর ট্রেন চাঁদপুর গেল।

চাঁদপুর স্টেশন মাস্টারকে টাকা দেয়ার পর সেখানে ট্রেন কিছুক্ষণ অ’পেক্ষা করেছে বলে আমাকে জানানো হলো। ট্রেন কেন অ’পেক্ষা করছে জানতে চাইলে আমাকে জানানো হলো কোত্থেকে নাকি মাছ উঠবে। ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের দেরী হলে তো অ’সুবিধা হবে। তাই আমি বিষয়টি কন্ট্রোলে জানাতে বলছিলাম তাদেরকে। শুনেছি ৩০ মিনিটের মত দেরী হয়েছে।

এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ( ডিআরএম) সাদেকুর রহমান এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যারা পেনশনভোগি তাদের টাকা দেওয়ার জন্য গিয়েছিল ট্রেন। কেনোনা স্টেশন মাস্টারদের এভাবেই বেতন-পেনশন পৌঁছাতে হয়। ঐদিন আমাদের ৮টি স্টেশনে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। চাঁদপুর ও যার একটি অংশ। টাকা না পৌঁছালে ওরা কেমনে চলবে।

আমা’র জানা মতে, ৮ স্টেশনে মোট ৮৯ লক্ষ টাকা ও ফেনী স্টেশনে ৩০ লক্ষ বিলি করতে গিয়েছিলেন। সাথে রেলওয়ের নিরাপত্তাকমী ও জিআরপি ছিলো। ধারাবাহিকভাবে ৮ টি স্টেশনে পেনশনের টাকা দিতে গিয়েছিলেন। কোন মাছের চালান আনতে নয়। কোন মাছের চালান আনতে গিয়েছিলো কিনা সেটা আমি জানিনা। যেই ট্রেনে করে ইলিশ মাছ এসেছে সেই ট্রেনের চালক মো. বখতিয়ার জানেন কিছু ইলিশ মাছ তুলেছিল। স্যারদের জন্য। পরদিন পহেলা বৈশাখ ছিল।